বাড়িতে সহজে আঙুর চাষ

প্রকাশিত ১৯ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আসুন জেনে নেই বাড়ির চিলেকোঠা বা ছাদে অথবা ঘরের বারান্দায় অথবা বাড়ির আঙ্গিনায় বা উঠোনে কিভাবে আঙুর চাষ করতে হবে

আঙুর একটি অতীব পরিচিত ফল। এই ফল খেতে সুমিষ্ট এবং রসালো। কিন্তু আমদের দেশে এই আঙুরের তেমন চাষ হয় না। তবে বর্তমানে বেশ কিছু যায়গায় আঙুরের চাষ করা হচ্ছে। আপনি চাইলে এই রসালো সুমিষ্ট ফলটি আপনি আপনার বাড়ির চিলেকোঠা বা ছাদে অথবা ঘরের বারান্দায় অথবা বাড়ির আঙ্গিনায় বা উঠোনে চাষ করতে পারেন। আসুন জেনে নেই কিভাবে এই গাছ চাষ করবেন।  

কিভাবে আঙুর চাষে টব/মাটি তৈরি করবেন

আঙুর চাষের জন্য কিছু মাটি বাছাই করতে হয়। এক্ষেত্রে দো-আঁশযুক্ত লালমাটি অথবা  জৈব সার সমৃদ্ধ কাঁকর জাতীয় মাটি এছাড়াও পাহাড়ের পাললিক মাটিতে আপনি আঙুর চাষের জন্য বাছাই করতে পারেন। কারণ এতে আঙুর চাষ ভালো হয়। 

আঙুর চাষে কি ধরণের টব/পাত্রের আকৃতি বাছাই করবেন

আঙুর একটি অতিলতানো গাছের ফল। সাধারণত আঙুর চাষের জন্য আপনি ছোট টব বা পাত্র ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও আপনি মাঝারি সাইজের টব বা বড় বোতল বা অন্য কোন পাত্র ব্যবহার করতে পারেন। আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বাড়ির উঠোনে বা আঙ্গিনায় মাচা করে এই আঙুরের চাষ করতে পারেন। 

আঙুরের  জাত বাছাই করা

আমাদের দেশে সাধারণত আঙুর চাষ খুব কম হয়। কিন্তু যা চাষ হয় তাঁর মধ্যে জাককাউ, ব্ল্যাক রুবী ওব্ল্যাক পার্ল অন্যতম। এগুলোই আমাদের দেশের জন্য ভাল জাতের আঙুর। 

আঙুরের চাষ/রোপনের সঠিক সময় 

আঙুর গাছের চারা লাগানোর ক্ষেত্রে আপনাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে মার্চ মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আঙুর চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। এই সময় আঙুর গাছ লাগালে ভাল ফলন পাওয়া যায়। 

কিভাবে আঙুর বীজ বপন ও সঠিক নিয়মে পানি সেচ দিবেন

আঙুর লাগানোর ক্ষেত্রে আপনাকে সর্বপ্রথম চারা সংগ্রহ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার নিকটস্থ নার্সারীতে যোগাযোগ করতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে যেখানে প্রচুর সূর্যের আলো পড়ে এমন যায়গায় আঙুর চারা লাগাতে হবে। এরপর আঙুর চারা গোড়ার মাটির বলসহ গর্তে রোপন করতে হবে। চারা লাগানোর পর একটি কাঠি গেড়ে গাছকে বেঁধে দিতে হবে এবং হালকা পানি সেচ দিতে হবে।

সঠিক নিয়মে আঙুর চাষাবাদ পদ্ধতি/কৌশল

আঙুর চারা লাগানোর পর এর বৃদ্ধির জন্য সময়মতো বাড়তি সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর একবছর পর আঙুর গাছ ছাটাই করতে হবে। গাছ ছাটাই করার অন্তত সাত দিন আগে গাছের গোড়ায় হালকা সেচ দিতে হবে। খেয়াল রাখবেন আঙুর গাছে পটাশ সার ব্যবহার করলে আঙ্গুর মিষ্টি হয় এবং রোগ বালাইয়ের উপদ্রব কম হয়।

আঙুর গাছে সারের পরিমাণ ও সার প্রয়োগ 

আঙুর গাছে সাধারণত আপনি বাড়িতে তৈরি জৈব সার দিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি মাটির সঙ্গে গোবর ও ইটের গুঁড়া মিশিয়ে দিতে পারেন।  এছাড়াও আপনি আঙুর গাছে অজৈব সার নিয়মিত দিতে পারেন। 

আঙুর গাছের পোকামাকড় দমন ও বালাইনাশক/কীটনাশক কিভাবে প্রয়োগ করবেন

আঙুর গাছে সাধারণত পিঁপড়া ও বিভিন্ন ধরণের পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়ে থাকে। এসব পিঁপড়া ও পোকামাকড়ের হাত থেকে আঙুর গাছ কে রক্ষ করতে হলে নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করে দিতে হবে। 

কিভাবে আঙুর বাগানের যত্ন ও পরিচর্যা করবেন

যেহেতু আঙুর গাছ লতা জাতীয় গাছ তাই উদ্ভিদ একটু বড় হলেই এটাকে সঠিক ভাবে বাড়ার জন্য মাচা করে দিতে হবে। শীতকাল আসলেই আঙুর গাছের সব পাতা ঝরে যায় এ সময় গাছটিকে দেখলে মনে হবে যেন গাছটি মরে গেছে। কিন্তু বসন্ত শুরু হওয়ার পর আঙুর গাছে ফুল-ফল ধরতে শুরু করে। এজন্য প্রতিবার গাছের ফল সংগ্রহের পর গাছ সঠিক ভাবে ছাটাই করতে হবে। 

আঙুরের খাদ্য গুণাগুণ

আঙুরের মধ্যে অনেক খাদ্য গুণাগুণ বিদ্যমান রয়েছে। এই ফলে রয়েছে অনেক ধরণের ভিটামিন ও পুষ্টি গুন। 

কখন  আঙুর ফল  সংগ্রহ করবেন

আঙুর ফল মূলত যখন ফল পরিপক্কভাবে পাকে তখনই ফল সংগ্রহ করতে হয়। তবে এপ্রিল-মে মাসে ফুল দেখা দেয় এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে পুরোপুরি ভাবে আঙুর ফল পাকে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে আঙুর ফল সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন আঙুর ফল পাকতে পাকতে বর্ষাকাল না চলে আসে। কারণ বর্ষা চলে এলে ফল মিষ্টি হয় না।

কি পরিমাণ আঙুর ফল পাওয়া যাবে

সাধারণত দেখা যায় যে সঠিক ভাবে পরিচর্যা করা হলে এক একটি আঙুর গাছ কমপক্ষে ৩০ বছর ফলন দিতে পারে। আর একটি গাছ থেকে আপনি কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ কেজি ফল পেতে পারেন। 

আঙুর ফলের অন্যান্য ব্যবহার

আঙুর ফল শুধুমাত্র কাচা খাওয়া ছাড়াও এই ফল দিয়ে বিভিন্ন ধরণের আচার, জ্যাম, জেলী ও বানানো হয়ে থাকে। এছাড়াও আঙুর ফল দিয়ে বিভিন্ন ধরণের মদ ও ড্রিংস তৈরি করা হয়ে থাকে। 

সংকলনে- মোঃ শাহিন মিয়া