কুচিলার অজানা তথ্য, ভেষজ গুণাবলী ও উপকারিতা

প্রকাশিত ১৬ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল, ২০২১

কুচিলা উঁচুবৃক্ষ জাতীয় চিরসবুজ উদ্ভিদ । কুচিলার ইংরেজি নাম  Loganiaceae । বিভিন্ন দেশে এর বিভিন্ন নামে পরিচিতি  । যেমন কুপাক, বিষতিন্দু, কুচলা । এর ফলত্বক বেশ শক্ত, অভ্যন্তরে সাদা তিক্ত শাঁসযুক্ত । প্রত্যেক ফলে ১-৫ টি করে বীজ থাকে ।  

কুচিলার  যে অংশ ব্যবহার করা যায়

সমগ্র উদ্ভিদ অর্থাৎ মূল, বাকল, পাতা, কাষ্ঠ এবং বীজ । 

কুচিলার  ব্যবহারবিধি ও উপকারিতা

পেটের সমস্যা

কুচিলার কাষ্ঠ তিক্ত । কাষ্ঠ সবিরাম জ্বর, রক্ত আমাশয় এবং অজীর্ণ রোগে ব্যবহার করা হয় । কুচিলা মূলের বাকলের রস তরুণ আমাশয় এবং কলেরা রোগে ব্যবহৃত হয় । মূলের বাকল গুড়া করেও ব্যবহার করা যায় । বাকলের গুড়া লেবুর রস বা চুনের পানির সাথে মিশিয়ে রোগীকে খেতে দিলে কলেরায় উপকার পাওয়া যায় । 

ব্যথা নাশক

থেতলা ব্যথা এবং ক্ষতে কুচিলা পাতার প্রলেপ (পুলটিস) দিলে বেশ উপকার পাওয়া যায় । 

অন্যান্য রোগে কুচিলার ব্যবহার

ইহা বাত, পক্ষাঘাত রক্তদুষ্টি, আমাশয়, অর্শ, উদারময়, অজীর্ণ, ব্রণ প্রভৃতি রোগে উপকার পাওয়া যায় । কুচিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ অংশ হল এর বীজ । বীজ অতিশয় বিষাক্ত বীজ পক্ষাঘাত, উদারময়, স্নায়ুবিক দৌর্বল্য, রক্ত আমাশয়, অবিরাম জ্বর, রক্তহীনতা বহুমূত্র, কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা, পেট বেদনা, অর্শ, মৃগী, লালামেহ, শুক্রমেহ, ইন্দ্রিয়শৈথিল্য, ব্রঙ্কাইটিস, কাশি, বাত, অনিদ্রা, জলাতঙ্ক প্রভৃতি রোগে সাফল্যজনক ভাবে ব্যবহৃত হয় । তবে অতিমাত্রায় ইহা বিষক্রিয়া প্রকাশ করে, টিটেনাসের মত খিঁচুনি সৃষ্টি করে, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং মৃত্যু ঘটাতে পারে । 

পেট ফাঁপা, পেট বেদনা, উদারময়, অজীর্ণ প্রভৃতি রোগেও কুচিলা বীজ, হরিতকী, পিপুল, গোলমরিচ, আদা, সৈন্ধব লবণ ও গন্ধক সমপরিমাণ লয়ে চার গ্রেন পরিমাণ মাত্রায় বড়ি গরম পানিসহ আহারের পর পর সেবন করলে ভাল উপকার পাওয়া যায় । কুচিলা, গোলমরিচ এবং আফিম প্রতি দুই গ্রেন মাত্রায় একত্রে নিয়ে বড়ি প্রস্তুত করে সেবন করলে স্নায়বিক রোগে উপকার দর্শে ।  

কুচিলা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ। এর ঔষধি গুণ অনেক । আমাদের সকলেরই এর যথাযথ ব্যবহার বিধিমেনে গ্রহণ করা উচিত।

সংককলনে- মোঃ শাহিন মিয়া