ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী শৈলকুপা শাহী মসজিদ

প্রকাশিত ২৮ আগস্ট, ২০১৮ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কুমার নদের তীরে অবস্থিত শৈলকুপা শাহী মসজিদ দক্ষিণবঙ্গে সুলতানী আমলের স্থাপত্যকীর্তির একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এই শৈলকুপা শাহী মসজিদ সুলতানী আমলের স্থাপত্যকলার উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। আপনি ইচ্ছা করেল স্বপরিবারে ঘুরে আসতে পারেন ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী শৈলকুপা শাহী মসজিদ। 

শৈলকুপা শাহী মসজিদের অবস্থান

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা শহর এর পাশে দরগাপাড়ায় শৈলকুপা শাহী মসজিদটি অবস্থিত।

শৈলকুপা শাহী মসজিদ যে কারণে বিখ্যাত বা ঐতিহাসিক পটভূমি বা গুরুত্বের বর্ণনা   

এই শৈলকুপা শাহী মসজিদ সুলতানী আমলের স্থাপত্যকলার উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। লোকমুখে জানা যায়, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের যোগ্য উত্তরাধিকারী সুলতান নাসির উদ্দিন নুসরত শাহর- শাসনামলে এটি নির্মিত। ১৫১৯ সালে পিতার দুঃখজনক মৃত্যুর পর নাসির উদ্দিন নুসরত শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন৷ ১৫৩২ পর্যন্ত রাজকর্মে রাজধানী গৌড় থেকে ঢাকা যাবার পথে তিনি বেশ কয়েকদিন শৈলকুপায় অবস্থান করেন৷ সুলতান নাসির উদ্দিনের সঙ্গে তার ধর্মপরায়ণ দরবেশ আরব শাহ ছিলেন৷ শৈলকুপার পারিপার্শ্বিক অনুপম সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে দরবেশ আরব শাহ এখানে থেকে যাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন৷ হাকিম খান ও সৈয়দ আব্দুল কাদের বাগদাদী নামে আরব শাহের দুই শিষ্যসহ তিনজন শৈলকুপা শহরে থাকার পক্ষে মত দেন৷ সুলতানের নির্দেশে মসজিদ সংস্কার, সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য কয়েকশ বিঘা জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেয়া হয়৷

শৈলকুপা শাহী মসজিদের দর্শনীয় দিক সমুহ বা আকর্ষণীয় দিকসমুহ  

চার কোণে আছে চারটি মিনার। এগুলো গোলাকার এবং বলয়াকারে স্ফীতরেখা (ব্যান্ড) দ্বারা অলংকৃত। মিনারগুলো মসজিদের অনেক উপরে উঠে গেছে। মসজিদের পূর্ব দিকে অনুচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত একঢি মাজার আছে। স্থানীয় লোকদের মতে এটি বাদশা আলমগীরের পীর দোস্তগীর শাহ্ মোহাম্মদ আরিফ-ই-রব্বানী ওরফে আরব শাহের মাজার। এ মাজারের কাছে আরও ছয়জন আউলিয়ার মাজার আছে।

মসজিদের পূর্ব দেয়ালের কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথের উভয় পাশে একটি করে সরু মিনার আছে এবং এগুলো কোণের মিনারের চেয়ে কিছু নিচু। মসজিদের কার্নিশ ঈষৎ বাঁধানো; ভিতরে পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মেহরাব। কেন্দ্রীয় মেহরাবটি আকারে বড়। মসজিদের ভিতরে পাঁচ ফুট উঁচু দুটি স্তম্ভ আছে। এগুলোর উপরে আছে ইটের তৈরি খিলান। এ দুটো স্তম্ভ ও চার পাশের দেয়ালের উপর নির্মিত হয়েছে ছয়টি গম্বুজ। এগুলো আকারে বেশ ছোট।

শৈলকুপা শাহী মসজিদে যে সময় যাবেন বা বেড়ানোর সময়কাল

আপনি ইচ্ছা করলে বছরের যে কোনদিন হাতে সময় নিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শৈলকুপা শাহী জামে মসজিদটি ঘুরে আসতে পারেন। এই প্রত্নতাত্ত্বিক ঐশ্বর্যমন্ডিত ঐতিহাসিক সভ্যতায় যাওয়ার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই।মসজিদটি দেখার জন্য দেশ-বিদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে-প্রতিদিন এখানে অনেক মানুষের আগমন ঘটে।

শৈলকুপা শাহী মসজিদে যেভাবে যাবেন

দেশের যেকোন স্থান হতে আপনি ঘুরে আসতে পারেন ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শৈলকুপা শাহী জামে মসজিদ। বাস, মাইক্রো, প্রাইভেটকার, কিংবা যেকন ধরনের যানবাহনে করে আপনি এখানে যেতে পারেন। এছাড়াও আপনি আপনার নিজস্ব গাড়ি নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন। এজন্য আপনাকে প্রথমে ঝিনাইদহে গিয়ে পৌঁছাতে হবে। ঝিনাইদহ জেলা সদর হতে সড়ক পথে বাস অথবা সিএনজি যোগে শৈলকুপা শাহী মসজিদে যেতে হয়। 

শৈলকুপা শাহী মসজিদের রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক ব্যাবস্থা

ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শৈলকুপা শাহী জামে মসজিদ দর্শনের সময় আপনি ইচ্ছা করলে একদিনেই পুরা ভ্রমণ শেষ করতে পারেন। এছাড়াও দূর থেকে আসলে ঝিনাইদহ জেলা শহরে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন ঝিনাইদহে পর্যটকদের জন্য থাকার সুব্যবস্থা নেই। এই জেলায় থাকার জন্য উল্ল্যেখ করার মত কোন হোটেল নেই। তবে ছোটখাট কয়েকটি হোটেল আছে তাঁর মধ্যে আছে হোটেল জামান, সৃজনী রেস্ট হাউস, ব্রাক রেস্ট হাউস, ঝিনাইদহ সার্কিট হাউস, এইড রেস্ট হাউস ইত্যাদি। তবে ঝিনাইদহে আপনি নানা পদের মজাদার খাবার খেতে পারবেন।

শৈলকুপা শাহী মসজিদের  কতৃপক্ষের অনুমতি প্রযোয্য হলে

যেকোন সময় আপনি ইচ্ছা করেল এই দর্শনীয় স্থান ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শৈলকুপা শাহী জামে মসজিদ ঘুরে আসতে পারেন। এখানে দর্শনের জন্য কোন অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এটা সর্বসাধারনের জন্য সম্পুর্ণরূপে উন্মুক্ত। এখানে প্রতিদিন মুসল্লীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে থাকে আপনিও ইচ্ছা করলে এই মসজিদে নামায আদায় করতে পারেন। 

তথ্য সংকলনে ও লেখক- মোঃ শাহিন মিয়া