টনসিলাইটিস এর চিকিৎসা

প্রকাশিত ২৬ আগস্ট, ২০১৮ | আপডেট: ১২ আগস্ট, ২০২০

টনসিলাইটিস হচ্ছে টন্সিলের প্রদাহ (ফোলা)। দেহে কোন ক্ষুদ্র জীবাণু নাক কিংবা মুখ দিয়ে প্রবেশ করলে সেই জীবাণু দিয়ে দেহের সংক্রমণ সৃষ্টি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে কাজ করা টন্সিলের কাজ। কিন্তু মাঝেমধ্যে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসটন্সিলকে সংক্রমিত করে। যখনি কারো এই ঘটনা ঘটে তখনই তার টনসিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

টনসিলাইটিস এর কারণে ব্যক্তি বা শিশু নানান সমস্যায় পড়ে, যেমন তার গলায় ক্ষত সৃষ্টি হয় ও ব্যথা করে, কিছু খেতে বা গিলতে পারে না, পান করতে পারে না, শরীরে জ্বর (১০৩ F পর্যন্ত বা তার উপর) থাকে ইত্যাদি লক্ষণাদি রোগীর মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। মাথা ব্যথা ও গলার গ্রন্থিগুলো ফুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যাও লক্ষ্য করা যায়। 

কখন চিকিৎসক ডাকা দরকার

১। শরীরে উচ্চ মাত্রার জ্বর থাকলে।

২। গলার পেছনে পুঁজ হলে।

৩। লাল র‍্যাশ অমসৃণ অনুভূত হলে ও ত্বকের ভাঁজে লাল অবস্থা বাড়তে থাকলে।

৪। কোনো কিছু গিলতে অসুবিধা হলে।

৫। শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধা হলে।

৬। গলার লিম্ফ গ্ল্যান্ড ফুলে গেলে।

যত্ন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা

১। পানিশুণ্যতা দূর করার জন্য প্রচুর পানি পান করুন।

২। গলা আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত তরল পান করুন।

৩। শিশুদের ক্ষেত্রে, পর্যাপ্ত ঘুমানোর ব্যবস্থা করুন।

৪। সিগারেটের ধোঁয়া থেকে শিশুকে মুক্ত রাখুন।

হোম রিমিডি

১। অধিক বয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে, ক্যাফিন মুক্ত চা ব্যবহার করা যায়।

২। মধু দিয়ে গরম পানি পান গলদাহ প্রশমিত করতে পারে।

৩। লবনের পানির কুলকুচা গলদাহ প্রশমিত করতে সাহায্য করতে পারে।

চিকিৎসা গ্রহণ

১। উপসর্গ বা লক্ষণ লাঘবের জন্য (ব্যথা) প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে, তবে আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিন।

২। ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রমণ ঘটলে চিকিৎসক antibiotic ওষধ প্রেসক্রাইব করবেন।

৩। মনে রাখবেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত antibiotic না খাওয়াই উত্তম।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাইন