হাইপারটেনশন

প্রকাশিত ২৯ আগস্ট, ২০১৮ | আপডেট: ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

হাইপারটেনশন (Hypertension) বলতে বোঝায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেহের রক্তের চাপ। যদি সিসটোলিক রক্ত চাপ ১৪০ মিমি মাঃ (mmHg) ও ডায়াস্টলিক রক্ত চাপ ৯০ মিমি মাঃ (mmHg) বা এর উপরে থাকে তবে একে হাইপারটেনশন (Hypertension) বিবেচনা করা হয়। এখানে রক্ত চাপের রিডিং দুইটি শব্দ বা প্রতীক রুপে দেওয়া হয়। একটি সিসটোলিক রক্ত চাপ, অপরটি ডায়াস্টলিক রক্ত চাপ। মূল কথা, হাইপারটেনশন হল উচ্চ রক্ত চাপ বর্ণনা করার জন্যে ব্যবহৃত অপর এক শব্দ।বেশির ভাগ সময় কোনো উপসর্গ থাকে না বলে হাইপারটেনশন কে নীরব ঘাতক বলে অভিহিত করা হয়।

আসুন জেনে নেই, স্বাভাবিক রক্ত চাপ, প্রি-হাইপারটেনশন, হাইপারটেনশন কিভাবে নির্ণয় করবেন

১। বেশির ভাগ সময় রক্ত চাপ যখন ১২০/৮০ মিমি মাঃ (mmHg)-র নিচে থাকে তখন এটি স্বাভাবিক রক্ত চাপ বলে ধরে নেওয়া হয়,

২। আর যদি রক্ত চাপ ১২০/৮০ মিমি মাঃ-র উপরে কিন্তু ১৪০/৯০ মিমি মাঃ-র নিচে থাকে, একে প্রি-হাইপারটেনশন বলে।

৩। বেশির ভাগ সময়রক্ত চাপ যখন ১৪০/৯০ মিমি মাঃ বা তার উপরে থাকে একে হাইপারটেনশন বলে ধরে নেওয়া হয়,

ডায়াবেটিস মেলিটাস বা কিডনী রোগীদের ক্ষেত্রে গবেষনায় দেখা গেছে, ১৩০/৮০-র অধিক রক্তচাপকে ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। 

হাইপারটেনশনের লক্ষণসমুহ

১। তীব্র মাথা ব্যথা, 

২। বমি বা বমিবমি ভাব, 

৩। মাথা ঘোরানি, 

৪। বিভ্রান্তি, 

৫। দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, 

৬। নাক দিয়ে রক্ত পড়া, 

৭। শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা বা শ্বাস কষ্ট, 

৮। ঘাড়ে ব্যথা, 

৯। বুক ধড়পড়, 

১০। বুকে ব্যথা ইত্যাদি

 উপরের সমস্যাগুলো আপনার থাকতে পারে।

কয়েকটা ভিন্ন ব্যাপার হাইপারটেনশনের কারণ হতে পারে।

২ ধরণের হাইপারটেনশন রয়েছে

১। প্রাথমিক উচ্চ রক্ত চাপ, ইসেনশল হাইপারটেনশনও বলা হয়। এ ধরনের উচ্চ রক্ত চাপের কারন অজানা। প্রাথমিক হাইপারটেনশন হওয়ার জন্য সচারাচর বহু বছর লাগে এবংসম্ভবত এটি জীবনযাত্রার ধরন, পরিবেশ, বয়সের সাথে সাথে শারীরিক পরিবর্তনের একটি কারন বা ফলাফল।

২। মাধ্যমিক হাইপারটেনশন, যখন স্বাস্থ্য সমস্যা ও ওষধ উচ্চ রক্ত চাপের কারণ হয়ে থাকে তখনি এটি ঘটে। যে জিনিসগুলো মাধ্যমিক হাইপারটেনশন সৃষ্টি করতে পারে সেগুলো হল-

৩। কিছু ওষধ যেমন জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল, এনএসএআইডি, কর্টিকস্টেরয়েডস, কোল্ড মেডিসিন, মাইগ্রেন মেডিসিন

ক) অতিমাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ।

খ) অতিমাত্রায়ল লিকোরিস গ্রহণ।

গ) কিডনিতে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে।

ঘ) রেনাল আর্টারী স্টেনোসিস।

ঙ ) গর্ভাবস্থা।

চ) প্রি-ইক্লাম্পসিয়া।

ছ) স্থুলতা বা অতিরিক্ত মেদ।

জ) শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া।

ঝ) ঘুমের সমস্যা, যেমন স্লীপ অ্যাপনিয়া।

ঞ ) থাইরয়েড বা অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির সমস্যা (যেমন কাশিং সিনড্রোম)।

উচ্চ রক্ত চাপের কিছু ঝুকিপুর্ণ কারণ রয়েছে

১। লবণ (প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ), ফ্যাট বা কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ।

২। অবিরাম চলতে থাকা শারীরিক সমস্যা যেমন কিডনি সমস্যা, হরমোনের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের মাত্রাধিক্য।

৩। নার্ভাস সিস্টেমের ও রক্তনালীর সমস্যা।

৪। উচ্চ রক্ত চাপজনিত পারিবারিক ইতিহাস থাকার সম্ভাবনা, যেমন বাবা-মা বা অন্য সদস্যদের থাকলে আপনারও হতে পারে।

৫। শারীরিক কাজকর্মের ঘাটতি।

৬। অধিকতর বয়স্ক ব্যক্তিদের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৭। শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া একটি ঝুকিপুর্ণ কারন।

৮। ধূমপান ও অবৈধ ড্রাগ গ্রহন।

উচ্চ রক্ত চাপের  আরও কিছু  কারণ রয়েছে

১। যারা আফ্রিকান অ্যামেরিকান

২। যারা বেশির ভাগ সময় দুশ্চিন্তায় ভোগেন

ব্যবস্থা গ্রহণ

মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের রক্তচাপের জন্য শারীরিক ওজন কমান। চিকিৎসকেরা নিয়মিত ব্যায়ামকে চিকিৎসার প্রথম ধাপ হিসেবে ধরে নেন। 

যে সকল কারণে উচ্চ রক্ত চাপ ঘটতে পারে তা পরিহার করুন। মানসিক চাপ নেওয়া ত্যাগ করুন। উঁচু মাত্রার শব্দের পরিবেশ বা অতিরিক্ত আলো পরিহার করুন, এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উপকার হতে পারে।

হার্টের জন্য উপকারী খাবার (পটাশিয়াম ও ফাইবারযুক্ত) গ্রহণ করুণ, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, শরীরের ওজন ঠিক রাখুন।

কোন কারণ ছাড়া ঘটিত অবস্থার জন্যে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। শারীরিক কোন সমস্যার দরুন উচ্চ রক্ত চাপ থাকলে চিকিৎসক ওষধ প্রেসক্রাইব করে থাকবেন। দিনে অন্ততঃ ২-৩ বার রক্তচাপ মেপে দেখুন ও রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ ড্রাগ বা ঔষধ নিতে পারেন।

এই প্রবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাইন