বয়স মানানসই খাবার বা খাদ্য

প্রকাশিত ১১ আগস্ট, ২০১৮ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল, ২০২১

প্রথমত, এটি আপনার শিশুকে যথার্থ পুষ্টি দেয়। দ্বিতীয়ত, আপনার শিশুর শারীরিক বিকাশ কিংবা অবস্থার জন্য এটি ঠিক। তৃতীয়ত, শৈশবকালীন স্থূলতা ঠেকাতে এটি আপনার শিশুকে সাহায্য করতে পারে।

শিশুর বয়স ৬-৮ মাস

এই বয়সে, আপনার শিশু সন্তান সম্ভবতঃ দিনে প্রায় ৪-৬ বার খাবে।

১। আপনার শিশুকে যদি ফর্মুলা খাওয়ান, তবে প্রতিখাবারে প্রায় ৬-৮ আউন্স খাদ্য গ্রহণ করবে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ভিতর ৩২ আউন্স এর বেশি খাওয়া বা খাওয়ানো উচিত নয়।

২। চাইলে আপনি ৬ মাস বয়সে কঠিন খাবার চালু করা শুরু করতে পারেন। যাইহোক অধিকাংশ শিশুর ক্যালরি বুকের দুধ বা ফর্মুলা থেকে আসা উচিত।

৩। বুকের দুধ আয়রনের ভালো উৎস নয়। তাই ৬ মাস পরে, শিশুর খাবারে আয়রনযুক্ত বা সমৃদ্ধ খাদ্য যোগ করা যেতে পারে। 

৪। ঠিক কয়েক চামচ পরিমাণে দিনে ২ বার খাদ্য বা খাদ্যশস্য থেকে তৈরি খাবার দিয়ে শুরু করা যায়।

৫। কিছু সংখ্যক ডায়েটিশিয়ান ফল দেওয়ার পুর্বে কিছু শাকসবজি চালু করার সুপারিশ দেন

৬। আপনার শিশু কতটুকু খায় তা তার সাইজ ও সে কত ভালো ফলমূল এবং শাকসবজি খায় তার উপর নির্ভর করে।

আপনার নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ জানা উচিত

১। শিশুকে কখনোই মধু দিবেন না, কারণ এটি ব্যাকটেরিয়া ধারণ করে থাকতেও পারে যা বটুলিজম ঘটায়। এটি দুর্লভ হলেও গুরুতর অসুস্থতা।

২। ১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত আপনার শিশুকে গরুর দুধ দিবেন না।

৩। শিশুকে খাওয়ানোর সময় ছোট চামচ ব্যবহার করুন।

৪। একটা বোতলের সাথে বিছানায় শিশুকে রাখবেন না।

৫। খাবারের মধ্যে শিশুকে পানি দেওয়া শুরু করা ভালো অভ্যাস বটে।

৬। যে পর্যন্ত না আপনার পেডিঅ্যাট্রিশিয়ান বা ডায়েটিশিয়ান সুপারিশ করে ততক্ষণ বোতলে খাবার দিবেন না।

৭। যখনি শিশু ক্ষুধার্থ শুধু তখনি তাকে নতুন করে খাবার দিন।

৮। লবণ বা চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

৯। শিশুর খাবারের খোলা কানটেইনার ঢেকে রাখা উচিত ও একটা রেফ্রিজারেটরে রাখা উচিত।

৮-১২ মাস বয়সী শিশু

এই সময় আপনার শিশুকে নিম্নোক্ত খাবার দিতে পারেন-

১। হালকা রান্না করা শাকসবজি।

২। ধৌত করা ফলমূল।

৩। মেলবা টোস্ট।

৪। নুডলস।

চাইলে আপনি আনসল্টেড ক্র্যাকারস খাওয়ানো চালু করতে পারেন। এই সময় দিনে ৩-৪ বার বুকের দুধ বা ফরমুলা চালিয়ে যেতে পারেন।

যা আপনার জানা দরকার

১। খাবারসমূহ যেমন আপেলের ফালি বা ভাগ, আঙ্গুর, রসাল ফল, কিসমিশ, ড্রাই ফ্লেক সিরিয়ালস, বাদাম, পীনাট বাটার, সীডস, পপকর্ণ ও কাঁচা শাকসবজি ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

২। চাইলে আপনি প্রতি সপ্তাহে ৩-৪ বার আপনার শিশুকে ডিমের কুসুম দিতে পারেন। কিছু সংখ্যক শিশু ডিমের সাদা অংশের প্রতি সংবেদনশীল। তাই তাদেরকে ১ বছর না হওয়া পর্যন্ত এটি দেওয়া যাবে না।

৩। আপনি সামান্য পরিমাণ চীজ, কটেজ চীজ ও ইউগাট দিতে পারেন, কিন্তু গরুর দুধ নয়।

১ বছর বা তার পরবর্তী

১। এই বয়সে আপনি আপনার শিশুকে বুকের দুধ বা ফর্মূলার পরিবর্তে হোল মিল্ক দিতে পারেন।

২। ২ বছর পরবর্তী সময় না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে লো ফ্যাট মিল্ক দিবেন না। বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ফ্যাট থেকে অতিরিক্ত ক্যালরি শিশুর দরকার।

৩। এই সময় আপনার সন্তান মীটস, ফ্রুটস, ব্রেডস, ডেইরী ও ভেজিটাবল থেকে তার বেশির ভাগ পুষ্টি পাবে।

৪। আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে আপনার সন্তান সকল প্রকারের ভিটামিন ও মিনারাল পাচ্ছে যা তার শরীরের জন্য দরকার।

আপনার জানা উচিত

১। আপনার শিশু নতুন কোন খাবার অপছন্দ করলে পরে আবার তা দেওয়ার চেষ্টা করুন।

২। আপনার শিশুকে মিষ্টি বা মিষ্ট বেভারেইজ দিবেন না।

৩। লবণযুক্ত খাবার, মসলাযুক্ত খাবার ও ক্যাফেইনযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

৪। শিশুর মধ্যে অস্থিরতা কাজ করলে তার মনোযোগের দরকার হতে পারে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়

মোঃ ফারুক হোসাইন