ফুসফুসের ক্যানসার

প্রকাশিত ২৩ আগস্ট, ২০১৮ | আপডেট: ১২ আগস্ট, ২০২০

ফুসফুসের ক্যানসার (Lung cancer) এমনএকটি রোগ যাতে ফুসফুসের টিস্যুগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত কোষবৃদ্ধি ঘটে। এই বৃদ্ধির ফলে মেটাস্টেসিস, নিকটস্থ টিস্যুতে আক্রমণ এবং ফুসফুসের বাইরে সংক্রমণ ঘটতে পারে। 

এই ক্যানসার এক বা উভয় ফুসফুসের অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি। এই কোষগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে ও টিউমারে পরিণত হয় যা ফুসফুসের কাজের ব্যাঘাত ঘটায়। অবশেষে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিক ফুসফুস ক্যানসারের অধিকাংশই ফুসফুস কার্সিনোমা,যা ফুসফুসের এপিথেলিয়াল কোষসমূহের মধ্যে ধরা পড়ে। ফুসফুসের ক্যানসার পুরুষদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং মহিলাদের এমন মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। ফুসফুসের ক্যানসারের কারণে প্রতি বছর পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ লোক মারা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্ণয়কৃত দ্বিতীয় সবচেয়ে কমন ধরণের ক্যানসার হচ্ছে ফুসফুসের ক্যানসার। বেশির ভাগ লোক যারা ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হয় তারা সিগারেট স্মোকার ছিলেন, কিন্তু নন-স্মোকাররাও এতে আক্রান্ত হয়।

ফুসফুস ক্যানসারের সাধারণ লক্ষণসমূহ হল

১। শ্বাস নিতে সমস্যা।

২। শ্বাসক্রিয়ার সময় বুকে শনশন শব্দ।

৩। নিউমোনিয়া বা ব্রোংকাইটিসের সাথে পুনরাবৃত্ত সমস্যা।

৪। ক্রমাগত বুক ব্যথা।

৫। রক্তসহ কাশি।

৬। কাশি না সেরে যাওয়া ও অধিক সময় ধরে আরও খারাপ হওয়া।

৭। ঘাড় ও মুখমণ্ডল ফোলে যাওয়া।

৮। ক্ষুধামান্দ্য।

৯। ওজন কমে যাওয়া।

১০। ক্লান্তি।

ফুসফুস ক্যানসারের ধরণ

দুইটা প্রধান ধরণের ক্যানসারের মধ্যে রয়েছে- 

১। Small cell lung cancer, মাঝেমধ্যে একে oat cell cancer বলা হয় যা সচারাচর খুব কম দেখা যায়। এই ধরণের ক্যানসার অধিক দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার অধিক সম্ভাবনা থাকে।

২। Non-small cell cancer, এটি অধিক কমন ও সাধারণত খুব ধীরে বৃদ্ধি পায়। 

এই ক্যানসারের প্রধান ৪ টি ধরণ রয়েছে

১। Squamous cell carcinoma

২। Adenocarcinoma

৩। Bronchoalveolar carcinoma 

৪। Large cell carcinoma

ফুসফুস ক্যান্সারের ইগজ্যাম ও টেস্টসমুহ

ফিজিক্যাল ইগজ্যাম, বুকের এক্স-রে পরীক্ষা (chest X-ray),কম্পিউটার টমোগ্রাফি(CTscan)এবং অন্যান্য টেস্টসমূহের মাধ্যমে ফুসফুসের ক্যানসার ধরা যেতে পারে। পরবর্তীতে একটি বায়পসির মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব। শল্যচিকিৎসা, কেমোথেরাপিএবং রেডিওথেরাপির মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যায়। ৫ বছর চিকিৎসার পর রোগীর বেঁচে যাওয়ার হার ১৪% ধরা হয়।

ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসা

লাং ক্যানসার টাইপ, সাইজ, লোকেশন সহ বেশ কয়েকটা কারণের উপর চিকিৎসা নির্ভর করে। বহু ভিন্ন চিকিৎসা ও চিকিৎসার সমন্বয় লাং ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে ও লক্ষণাদি কমিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্যানসার দুরীকরণে সার্জারীর দরকার হয়ে থাকে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাইন