ইরিটাবল বা ওয়েলসিনড্রোম

প্রকাশিত ১৫ আগস্ট, ২০১৮ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আইবিএস এর কথা আপনারা হয়তো শুনেছেন বা শুনে থাকবেন। লোকজন প্রায় অভিযোগ করে থাকে তাদের পেটে সমস্যা, যা তাদের জন্য অস্বস্তি অনুভূতি সৃষ্টি করে। যে কোন বয়সে ইরিটাবল বাওয়েল সিনড্রোম ঘটতে পারে, প্রায়ই তরুণ বয়সে বা প্রাপ্তবয়সের শুরুরদিকে আরম্ভ হতে পারে।

ইরিটাবল বা ওয়েল সিনড্রোম, স্পাস্টিক কোলন ও মিউকাস কোলাইটিস নামে পরিচিত। একে ফাংশনাল গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ডিসঅর্ডারও বলা হয়। এটি ক্ষুদ্রান্ত ও বৃহদ্রান্ত উভয়ের কোষ্ঠ্যশুদ্ধির অনিয়ম ও শীঘ্রকোপিত্ব দ্বারা সৃষ্ট একটি ডিসঅর্ডার।

মনে রাখার বিষয়, আইবিএস আইবিডি বা ইনফ্লামেটরী বাউয়েল ডিজীজ এর মতো একই নয়।

আমেরিকাতে ৫ জনের ১ জন ইরিটাবল বাওয়েল সিনড্রোমে ভোগেন। বস্তুত এটি সবচেয়ে কমন উপসর্গ ভিত্তিক ডায়াগনোসিস ডিসঅর্ডারের মধ্যে একটি। পুরুষের চাইতে মহিলাদের ইরিটাবল বাওয়েল সিনড্রোমের ঝুঁকি অধিক এবং প্রায় ২০ বছর বয়সের দিকে সচারাচর ঘটতে দেখা যায়।

যদিও আইবিএস এর সঠিক কারণ অস্পষ্ট তথাপি এটি অন্ত্রের সংক্রমণের পর ওঅধিক মানসিক চাপ থেকেও শুরু হতে পারে। তবে বয়সের সাথে এর সম্পর্ক খুব একটা জোরালো না।অনুমান করা হয় যে, কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে অন্ত্রীয় ফ্লোরাতে কিছু সমস্যা দেখা দেয় এবং এটা অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করে তাই অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

অন্ত্রের সংক্রমণের পর এটি ঘটে থাকে বলে একে পোস্টইনফেকশাস আইবিএস বলা হয়। ইরিটাবল বাওয়েল সিনড্রোম হওয়ার পেছনে অন্যান্য ট্রিগারও থাকতে পারে।

ইরিটাবল বা ওয়েল সিনড্রোম কিছু কমন লক্ষণ

১। পেটব্যথা।

২। পেটফাঁপা।

৩। পেটে অস্বস্তি।

৪। গ্যাস।

৫। মাথাব্যথা।

৬। মলের সাথে মিউকাস।

৭। বমিভাব।

৮। পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা উভয়।

৯। ডিপ্রেশন এবং ক্লান্তি।

ইরিটাবল বা ওয়েল সিনড্রোম ইগজ্যাম ও টেস্টসমূহ

আইবিএস নির্ণয় করার জন্য কোন টেস্ট নেই। বেশির ভাগ সময় চিকিৎসক লক্ষণের উপর ভিত্তি করে তা নির্ণয় করতে পারেন।

ইরিটাবল বা ওয়েল সিনড্রোম চিকিৎসা

চিকিৎসার লক্ষ্য হচ্ছে উপসর্গ লাঘব করা। লাইফ স্টাইল পরিবর্তন  আইবিএস এর কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। উদাহরণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও ভালো ঘুমের অভ্যাস দুশ্চিন্তা কমাতে পারে ও বাউয়েল সিম্পটোম লাঘবে সাহায্য করে।

খাবার পরিবর্তন উপকারী হতে পারে। কোন সুনির্দিষ্ট খাবার আইবিএস এর জন্য সুপারিশ করা যায় না, কারণ অবস্থা এক ব্যক্তি থেকে অন্যজনের জন্য ভিন্ন হয়ে থাকে।

ইরিটাবল বা ওয়েল সিনড্রোম চিকিৎসক কিছু ঔষধ সাজেস্ট করতে পারেন

১। Anticholinergic medications

২। ডায়রিয়ার চিকিৎসার জন্য Loperamide

৩। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর বা চিকিৎসা করার জন্য Bisacodyl

৪। Tricyclic antidepressants (Low dose)

৫। Antibiotic

দুশ্চিন্তা ও হতাশার জন্য সাইকোলজিকোল থেরাপি বা ওষধ সমস্যায় সাহায্য করতে পারে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাইন