ওটিসি ওষুধ

প্রকাশিত ৮ আগস্ট, ২০১৮ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ঔষধ কি আসুন জানি

ঔষধ হল এমন একটি সাবস্টান্স বা রাসায়নিক দ্রব্য যা প্রয়োগের ফলে ফিজিওলজিকল সিস্টেম বা প্যাথোলোজিকল প্রসেস পরিবর্তিত হয় এবংরোগ নির্ণয় হয়, রোগ প্রতিকার হয়বা পীড়া ও ক্লেশ নিবারণ হয় কিংবা রোগ বা পীড়ার চিকিৎসা হয়। 

ঔষধ তিনটি মূল উপায়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে

১) রোগ প্রতিকারেঃ প্রাইমারী ও অক্সিলারী।

২) রোগ দমনে।

৩) রোগ প্রতিরোধেঃ প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী।

কিন্তু কোন কারণ না জেনে ঔষধ সেবন জীবন হুমকিস্বরুপ হতে পারে। ঔষধ গ্রহণে যেমন উপকারী ফল পাওয়া যায় তেমন ক্ষতিকারক ফলও পাওয়া যায়।নির্দিষ্ট মাত্রায় ও নির্দিষ্ট রোগে ব্যবহৃত না হলে ঔষধ পরিণত হয় বিষে।

William Withering বলেন, সামান্য মাত্রার বিষ হল উত্তম ঔষধ; অতি বেশি মাত্রার একটি উপকারী ঔষধ হল বিষ।

আইনগতভাবে সব ওষুধকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এদের একটি হচ্ছে ওভার দ্য কাউন্টার ও আরেকটি কন্ট্রোলড ওষুধ।

এখানে কিছু ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ এর নাম উল্লেখ করা হল

ওটিসি ওষুধ মানে ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ, যেগুলো আমরা কোন প্রেস্ক্রিপশন ছাড়াই ঔষধ দোকান বা ফার্মেসী থেকে কিনে থাকি। সাধারণভাবে বলতে গেলে এই ধরণের ওষুধকিনতে গেলে রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের কোন প্রেসক্রিপশন লাগে না।একে self-administered medicine বলা যায়, সচারাচর স্থায়ীয় যেকোন দোকানে যাওয়া যেতে পারে।

ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধগুলো হল প্যারাসিটামল, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট, ভিটামিন,এসপিরিন, অ্যাসকবিক এসিড,বেনজাইল বেনজয়েট, ক্লোট্রিমাজল, আইবোপ্রোফেন, অ্যান্টাসিড, লেক্সেটিভ, অ্যান্টীইমেটিক, লোরাটাডিন, সেটিরিজিন, ক্লোরফেনার্যা্মিন, এফিড্রিন, এপিনেপ্রিন, ফেরাস সালফেট বা গ্লুকোনেট, হাইড্রোকর্টিসন, টারবিনেফাইন, কিটোকোনাজল, নাইস্টাটিন, লোপারামাইড, কন্ট্রাসেপটিভ পিল, মেক্লিজিন, মিল্ক অভ ম্যাগনেসিয়া,  কিছু আলসার হীলিং ড্রাগ যেমন রেনিটিডিন, ওমিপ্রাজল, কিছু কফ সাপ্রিসেন্টস বা ডেক্সট্রোমেথরফেন, অ্যালবেনডাজল, পার্মেথ্রিন, মেনথোল ইত্যাদি।

এদের মধ্যে জ্বর ও ব্যথাবেদনা কমাতে প্যারাসিটামল, এসপিরিন, আইবোপ্রোফেন ব্যবহার করা হয়। পাকস্থলীর অ্যাসিডের কারণে সৃষ্ট সমস্যা দূর করতে অ্যান্টাসিড বা আলসার হীলিং ড্রাগস (ওমিপ্রাজল)ব্যবহার করা হয়। অ্যান্টীইমেটিক বমি করা ও বমিবমিভাব হওয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অ্যালার্জিজনিত চিকিৎসায় অ্যানটিহিস্টামিন যেমন লোরাটাডিন, সেটিরিজিন, ক্লোরফেনার্যাটমিন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

কাশি উপশমে ডেক্সট্রোমেথরফেন, পাকস্থলীর সমস্যা ও কোষ্ঠ্যকাঠিন্যে মিল্ক অভ ম্যাগনেসিয়া, কৃমির জন্য অ্যালবেনডাজল, ডায়রিয়ার জন্য ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট ও লোপারামাইড, ছত্রাকের জন্য কিটোকোনাজল, নাইস্টাটিন ও ফ্লুকোনাজল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ফার্মেসীতে গিয়ে এই ওষুধগুলো কোনরূপ প্রেসক্রিপশন ছাড়াইকেনা যায় যায় বলে এদের নামকরণ হয়েছে ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়

মোঃ ফারুক হোসাইন