গ্রীষ্মকালীন রোগ-হামবা মীজলস

প্রকাশিত ২ আগস্ট, ২০১৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর, ২০২০

হাম হচ্ছে ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটা ছোঁয়াচে রোগ, যা সহজেই এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এটি জার্মান মিজলস নামেও পরিচিত।German measles, রুবেলা নামেও পরিচিত, সম্পুর্ণ একটা ভিন্ন অসুস্থতা। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উভয়ের হাম হতে পারে, তবে শিশুদেরকে হামে আক্রান্ত হতে বেশি দেখা যায়। এ রোগের চিকিৎসা যদি ঠিকভাবে না করা হয় তাহলে রোগী নানা জটিলতায় পড়তে পারে।

হাম কিভাবে ছড়ায়

আক্রান্ত ব্যক্তির নাক, মুখ বা গলা থেকে নির্গত তরলের (ফোঁটার আকারের অনুরুপ কোনো কিছু) সংস্পর্শে কেউ আসলে তারও হাম হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশির মাধ্যমে হাম সৃষ্টিকারী ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। সেই বাতাসে কেউ শ্বাসগ্রহণ করলে ভাইরাস তাকেও আক্রমন করতে পারে।

ভাইরাসের সংক্রমণের ৮-১২ দিন পর সচারাচর লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়, একে incubation period বলে। প্রধান লক্ষণ হচ্ছে শরীরে র‍্যাশ, অসুস্থ হওয়ার প্রথম লক্ষণের ৩-৫ দিন পর সচারাচর দেখা যায় ও ৪-৭ দিন সম্ভবত স্থায়ী হয়। সাধারণত মাথায় শুরু হয়ে অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে উক্ত স্থানে চুলকানি সৃষ্টি হয়।

র‍্যাশ ছাড়াও অন্যান্য লক্ষণাদি থাকতে পারে

কাশি, জ্বর, ফটোফোবিয়া, পেশির ব্যথা, চোখ-মুখ ফুলে উঠা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া (কনজাংক্টিভাইটিস), চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, যন্ত্রণা বোধ, গলা ব্যথা, মুখের ভিতর ক্ষুদ্র সাদা দাগ।

হামের কারণে সৃষ্টজটিলতা

ব্রোংকাইটিস, এনসেফালাইটিস, ওটাইটিস মিডিয়া (কানের সংক্রমণ), নিউমোনিয়া।

ইগজ্যাম ও টেস্ট

১। Measles serology

২। Viral culture (খুব কম করা হয়ে থাকে)

মাঝেমধ্যে হাম গুরুতর সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। হামের কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, কিন্তু measles-mumps-rubella (MMR) vaccine এটা প্রতিরোধ করতে পারে।

নিম্নোক্ত উপায়ে উপসর্গ বা লক্ষণ লাঘব করা যেতে পারে

১। Acetaminophen

২। বিশ্রাম গ্রহণ

৩। হিউমিডিফাইড এয়ার

কিছু সংখ্যক শিশুদের vitamin A supplements দরকার হতে পারে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি কমায় ও জটিলতা হ্রাস করে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়

মোঃ ফারুক হোসাইন