আসুন জেনে নেই যব গাছের বিভিন্ন ধরণের রোগবালাই ও তাঁর প্রতিকার সম্পর্কে

প্রকাশিত ১৫ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ৭ আগস্ট, ২০২০

যব সম্প্রতি আমাদের দেশে একটি অর্থকারী ফসল। যব চাষ করে বর্তমানে আমাদের দেশের কৃষকেরা অনেক লাভবান হচ্ছেন। তবে যব চাষ করার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যবের ক্ষেতে বিভিন্ন ধরণের রোগ বালাইয়ের আক্রমণ হয়। আসুন জেনে নেই যবের কিছু রোগবালাই ও  তাঁর প্রতিকার সম্পর্কে।

যব গাছের বিভিন্ন রোগের লক্ষণ ও বর্ণনা

১। লুজ স্মাট বা আলগা ঝুল রোগ

ক) লুজ স্মাট যবের একটি অন্যতম প্রধান রোগ। এটি Ustilago nuda  নামক ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে। 

খ) মঞ্জরীর মধ্য দিয়া জীবাণুর অনুপ্রবেশ করার ফলে যে সব রোগ হয় লুজ স্মাট উহাদের মধ্যে অন্যতম। ঠাণ্ডা ও অপেক্ষাকৃত আর্দ্র অঞ্চলে লুজ স্মাট রোগ বেশি হয়।

গ) এই রোগে আক্রান্ত গাছের শিষ নীরোগ গাছ অপেক্ষা পূর্বে বের হয়। আক্রান্ত ছড়াগুলি কালো দেখা যায় এবং উহার দানার ভিতরে কালো গুঁড়ার মতো ছত্রাক স্পোর দ্বারা পূর্ণ থাকে। 

২। কভার্ড বা বদ্ধঝুল রোগ

ক) গাছের ছড়ায় এই রোগের উপসর্গ বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। সাধারণত প্রত্যেক ছড়ায় অনেকগুলি করে গিঁট থাকে এবং প্রত্যেক গিঁটে একটি করে স্পাইকলেট (spikelet) থাকে।

খ) এই রোগ দ্বারা আক্রন্ত দানায় কোন শর্করার কোন চিহ্ন থাকে না এবং এর সমস্তটাই কালো কালো ক্লামাইডোস্পোর দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। 

গ) Ustilago hordei  নামক ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। 

৩। স্পট ব্লচ রোগ

ক) ছোট বড় প্রায় সকল রকমের গাছের এই রোগ হতে পারে। চারা গাছের বীজপত্রে কালো কালো দাগ পড়ে। 

খ) এই দাগ ক্রমশঃ নিচের দিকে বিস্তৃত হয়ে শিকড় আক্রমণ করে। এই রোগের জন্য কিছু কিছু চারা মাটির নিচে থাকাকালীন এবং কিছু কিছু চারাগাছ মাটির উপরে উঠার পর মরে যায়।

গ) রোগাক্রমণের ফলে চারাগাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং গোঁড়া হতে প্রচুর ডালপালা বাহির হয়। পাতা আক্রান্ত হলে এর উপর বিভিন্ন ধরণের দাগ পড়ে।

ঘ) পরে এই দাগ একত্রে মিলে একটা বৃহৎ দাগের সৃষ্টি করে। যার ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাতা শুকিয়ে যায়। বীজার ভ্রূণ আক্রান্ত হলে কালো হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

ঙ) Helminthosporiun sativum নামক ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে।

যব গাছের বিভিন্ন  রোগের প্রতিকার

১। লুজ স্মাট বা আলগা ঝুল রোগ

ক) ছত্রাক বীজের মাধ্যমে বিস্তারলাভ করে। বীজের মধ্যে মাইসেলিয়াম থাকার জন্য গরম পানির সাহায্যে বীজকে জীবাণুমুক্ত করা যায়।

খ) গরম পানিতে বীজ শোধন করার পর ঠাণ্ডা পানিতে ১২ ঘণ্টা বীজ ভিজিয়ে রাখার পর ৫৪০ সেঃ তাপমাত্রার গরম পানিতে ১৩ থেকে ১৩ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে। পরে বীজ শুকাইয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেতে বপন করতে হবে। 

২। কভার্ড বা বদ্ধঝুল রোগ

ক) বীজ বপন করার পূর্বে অবশ্যই বীজ কে শোধন করে নিতে হবে। এর জন্য বীজকে ফরমালিন মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা ভিজা বস্তা দ্বারা ঢাকিয়া রাখতে হবে। 

খ) বীজগুলি শুকিয়ে শোধনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে বপন করা হয়। বীজ শোধন করা সম্ভব না হলে বপনের পরই জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে রোগের প্রাদুর্ভাব কম দেখা যাবে। 

৩। স্পট ব্লচ রোগ

ক) ফসল আহরণের পর পরিত্যক্ত অংশসমূহ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রোগমুক্ত এলাকা হতে নীরোগ বিজ সংগ্রহ করতে হবে।

খ) বীজ বপনের পূর্বে বীজ শোধন করে নিতে হবে। বিলম্বে বীজ বপন করতে হবে। 

সংকলনে- মোঃ শাহিন মিয়া