পেরিকনড্রাইটিস

প্রকাশিত ১৭ জুলাই, ২০১৮ | আপডেট: ১২ আগস্ট, ২০২০

বহিকর্ণের কার্টিলিজের চারদিকে পরিবেষ্টন করা ত্বক ও টিস্যুর একটা সংক্রমণকে পেরিকনড্রাইটিস বলে।

পেরিকনড্রাইটিস যদি কনড্রাইটিস হয়ে থাকে তবে তা কানের গঠনের তীব্র ড্যামেইজ সৃষ্টি করতে পারে, এখানে স্বয়ং কার্টিলিজের সংক্রমন হয়ে থাকে।

কার্টিলিজ হচ্ছে পুরু বা মোটা টিস্যু যা নাক ও বহিকর্ণের শেইপ সৃষ্টি করে। পেরিকনড্রিয়াম নামক এর চারদিকে সব কার্টিলিজেরই টিস্যুর একটা পাতলা স্তর থাকে। এই আচ্ছাদন কার্টিলিজে নিউট্রিয়েন্টস সরবরাহে সাহায্য করে।

Pseudomonas aeruginosa, সবচেয়ে কমন ব্যাকটেরিয়া যা পেরিকনড্রাইটিস সংক্রমণ সৃষ্টি করে। কানের সার্জারী, কানে কিছু ভেদ করা, বা অন্য যেকোন কারণে কানের জখম দ্বারা সাধারণত পেরিকনড্রাইটিস ঘটে থাকে। আজকাল কার্টিলিজের মধ্যদিয়ে কানের মধ্যে কিছু বিদ্ধ হওয়া সম্ভবত সবচেয়ে তাৎপর্যপুর্ণ ঝুঁকির কারণ। তাছাড়া পুড়ে যাওয়া, আকুপাংচারও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

পেরিকনড্রাইটিস এর সবচেয়ে কমন লক্ষণের মধ্যে রয়েছে

১। কানে ভীষণ ব্যথা।

২। কান লাল হয়ে যাওয়া, সচারাচর আক্রান্ত স্থানের চারদিকে।

৩। সংক্রমণ প্রথমে একটা ত্বকের সংক্রমণের মতো দেখায়।

৪। পরবর্তীতে সংক্রমণ দ্রুত আরো খারাপের দিকে যায়।

৫। কানে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৬। শরীরে সম্ভবত জ্বর থাকতে পারে।

৭। তীব্র ক্ষেত্রে, ক্ষত থেকে তরল বেরিয়ে আসতে পারে।

পেরিকনড্রাইটিসের ইগজ্যাম ও টেস্টস

কানের দিকে তাকিয়ে ও ব্যক্তির মেডিক্যাল হিস্ট্রির উপর ভিত্তি করে পেরিকনড্রাইটিস নির্ণয় করা হয়। কান সম্ভবত ফোলা দেখাতে পারে। কানের স্বাভাবিক শেইপ এর একটা পরিবর্তন থাকতে পারে।

পেরিকনড্রাইটিসের সম্ভাব্য জটিলতা

শুরুর দিকে যদি চিকিৎসা করা না হয় তবে সংক্রমণ কানের কার্টিলিজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভবত সার্জারী এটাকে একটা স্বাভাবিক শেইপ এ নিয়ে আসতে পারে।

পেরিকনড্রাইটিসের চিকিৎসা

যেহেতু এটি Pseudomonas aeruginosa ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে তাই চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে antibiotics, যা মুখে নেওয়া যায় বা IV রুটে দেওয়া হয়ে থাকে। যদি আক্রান্ত স্থানে পুঁজ হয়ে থাকে তবে তা বের করার জন্য ও মৃত ত্বক অপসারণের জন্য সার্জারীর দরকার হতে পারে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাইন