মনোনিউরোপ্যাথি

প্রকাশিত ৪ মে, ২০১৮ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল, ২০২১

মনোনিউরোপ্যাথি সেই অবস্থাসমুহের একটি গ্রুপ যা মস্তিষ্ক ও সুষুম্না কাণ্ডের বাইরের স্নায়ুকে প্রভাবিত করে। এটি একটা অবস্থা বা সমস্যা বর্ণনা করে যাতে শুধু একটি সিঙ্গেল নার্ভ বা নার্ভ গ্রুপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সমস্যাটি নেতিবাচকভাবে সেই নার্ভ বা নার্ভ গ্রুপযুক্ত শরীরের অংশকে প্রভাবিত করে; অনুভূতিহীনতা, চলনহীনতা, বা শরীরের সেই অংশের কার্যকারিতা হ্রাস ঘটিয়ে থাকে। মনোনিউরোপ্যাথি শরীরের যে কোন অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। ১০০ এর অধিক ধরণের পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি রয়েছে।

সবচেয়ে কমন ধরণের কিছু সংখ্যকের মধ্যে রয়েছে

১। কার্পল টানেল সিনড্রোম।

২। কমন পেরোনিয়াল নার্ভ ডিসফাংকশন।

৩। ফেমোরাল নিউরোপ্যাথি।

৪। ক্র্যানিয়াল মনোনিউরোপ্যাথি।

৫। অ্যাক্সিল্যারী নার্ভ ডিসফাংশন।

৬। রেডিয়্যাল নার্ভ ডিসফাংকশন ইত্যাদি।

মনোনিউরোপ্যাথির লক্ষণাদি

কোন কোন নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় নির্দিষ্ট লক্ষণাদি তার উপর নির্ভর করে। লক্ষনাদির মধ্যে থাকতে পারে

১। অনুভূতি হ্রাস পাওয়া।

২। মাংসপেশির খিঁচুনি বা আক্ষেপ।

৩। স্নায়বিক উত্তেজনা।

৪। অতিশয় উদ্দীপ্ত হত্তয়া।

৫। অসাড়তা, অনুভুতিহীনতা।

৬। প্যারালাইসিস।

৮। অভিব্যক্তি হ্রাস।

৯। দুর্বলতা।

১০। মাঝেমধ্যে ব্যথা।

১১। নড়াচড়ার অসুবিধা ইত্যাদি।

মনোনিউরোপ্যাথির কারণসমূহ

নার্ভ সেল যখন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায় তখনি নিউরোপ্যাথি ঘটে। জখম হচ্ছে এই অবস্থার সবচেয়ে কমন কারণ। এটি দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া, পুনরাবৃত্তিমূলক স্ট্রেস বা মানসিক চাপ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে।

অন্যান্য কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে

১। সিসটেমিক ডিজীজ যেমন কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, কয়েক ধরণের ক্যানসার ইত্যাদি।

২। অটোইমিউন ডিজীজ ও ইনফেকশন (হার্পিস, সিফিলিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লাইম ডিজীজ, এইচআইভি ইত্যাদি সহ)।

৩। কেমোথেরাপিসহ কিছু ঔষধ।

৪। অ্যালকোহলিজম।

৫। বেঠিক লেভেলের ভিটামিন ই, বি১, বি৬, বি৯, বি১২ ও নিয়াসিন।

৬। ভাস্কুলার ডিসঅর্ডার।

৭। শিল্পকারখানার রাসায়নিক দ্রব্য, সলভেন্ট ও ভারী ধাতুর প্রভাবাধীন হওয়া।

মনোনিউরোপ্যাথির চিকিৎসা

চিকিৎসা মূল কারণ ও নার্ভ ড্যামেইজ এর উপর নির্ভর করবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, আক্রান্ত দেহাংশ আপনাআপনি অধিকতর ভালো হতে পারে, যেখানে চিকিৎসার কোন দরকার হবে না। আপনার চিকিৎসক সম্ভবত আপনাকে Corticosteroids ও Gabapentin প্রেসক্রাইব করতে পারেন। শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত জায়গার পেশী শক্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সাহায্যের জন্য Physical therapy ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি প্রয়োজন পড়ে তবে আপনাকে ব্রেইস, স্প্লিন্ট বা বিশেষ জুতা পরিধান করতে হতে পারে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাই