পানের কাণ্ড পচা রোগ

প্রকাশিত ১১ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

পান আমাদের দেশের একোটি অর্থকরী ফসল। পান চাষ করার ক্ষেত্রে পানের একটি মারাত্মক রোগ হল পানের কান্ড পচা রোগ। Sclerotium rolfsii  নামক ছত্রাকের আক্রমণে পানের এ রোগ হয়ে থাকে।

পানের কান্ড পচা রোগের বিস্তার

এ ছত্রাকটি মাটি বাহিত। মাটিতে জৈব সার বেশি ও খড়কুটা থাকলে এবং পানি সেচের মাধ্যেমে আক্রান্ত ফসলের জমি হতে সুস্থ ফসলের জমিতে এ রোগ বিস্তার করে।

পানের কান্ড পচা রোগের লক্ষণ

ক) পান গাছের যে কোন বয়সে এ রোগ হতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে মাটির ওপর শায়িত লতার গোড়ায় মাটির কাছের একটি বা দুটি পর্বমধ্যে কালো বর্ণ ধারণ করে।

খ) এই রোগে আক্রমণের ফলে পান গাছের উপরের লতার পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। এছাড়াও মাটি সংলগ্ন লতার ওপর সাদা সুতার মত ছত্রাক মাইসেলিয়া দেখা যায়।

গ) পরবর্তীতে হালকা বাদামি থেকে বাদামি রঙ এর সরিষার ন্যায় অসংখ্য দানার মত স্ক্লেরোসিয়া দেখা যায় এবং মাটি সংলগ্ন লতা পচে গাছ ঢলে পড়ে মারা যায়। 

পানের কান্ড পচা রোগ দমন ব্যবস্থাপনা

ক) উক্ত রোগাক্রান্ত লতা-পাতা পানের বরজ থেকে তুলে মাটিতে পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। 

খ) রোগ প্রতিরোধী পানের জাত যেমনঃ বারি পান- ৩ এর চাষ করতে হবে।

গ) পান চাষের পূর্বে জমি গভীরভাবে চাষ দিয়ে রোদ্রে ভালো করে শুকাতে হবে।

ঘ) পানের বরজে সবসময় আগাছামুক্ত ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। 

ঙ) যদি বরজে পানি বা বৃষ্টির পানি জমে তাহলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে পান গাছের গোড়া পচে যেতে পারে। 

ঙ) পানের বরজে যেন সরাসরি রোদ না পড়ে সে জন্য সার্বক্ষনিক ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও সুস্থ সবল রোগমুক্ত পানের লতা সংগ্রহ করতে হবে।

চ) ট্রাইকোডার্মা কম্পোস্ট সার প্রতি গাছে ৫ গ্রাম হারে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।

ছ) লতা রোপণের পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে কার্বোক্সিন (১৭.৫%) + থিরাম (১৭.৫%) গ্রুপের যেমন- প্রোভাক্স বা কার্বেনডাজিম গ্রুপের যেমন- ব্যভিস্টিন দ্বারা লতা শোধন করে নিতে হবে।

ঞ) বরজে রোগ দেখা দিলে হেক্সাকোনাজল গ্রুপের যেমন- কনটাফ ৫ ইসি ছত্রাকনাশক ১ মিলি/ লিটার অথবা মেনকোজেব (৬৪%) + মেটালাক্সিল (৮%) গ্রুপের যেমন- পদ্মমিল ৭২ ডব্লিউপি ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

আরও তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি অফিসার অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।

তথ্য সূত্র-

উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সংকলনে- মোঃ শাহিন মিয়া