আদার কন্দ পচা রোগ

প্রকাশিত ১১ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

আদার কন্দ পচা রোগের পরিচিতি

ক) কন্দ পচা রোগ আদার একটি ছত্রাকজনিত রোগ। Fusarium oxysporium f.sp zingiberi, phthium spp. নামক ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগ হয়। 

খ) এই রোগ মাটি ও বীজ বাহিত রোগ। বৃষ্টিপাতজনিত রসালো মাটি ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে। 

গ) কন্দ পচা রোগের আক্রমণে আদার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। জমিতে এই কন্দ পচা রোগ দেখা দিলে কন্দ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় আদা ফসলের ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

ঘ) এতে আদার ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।

আদার কন্দ পচা রোগে  ক্ষতির লক্ষণ

ক) কন্দ পচা রোগের আক্রমণে প্রথমে আদা গাছের নিচের দিকে পাতার প্রান্তভাগে হালকা হলুদাভ লক্ষণ প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে এই রোগ পত্রফলকের দিকে বিস্তার লাভ করে। 

খ) এই রোগে আক্রমণের ফলে পাতার মধ্যভাগ সবুজ থাকলেও পাতার কিনারায় ক্রমশ হলুদ হতে থাকে। পরে আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ পাতা হলুদ হয়ে গাছ ঝিমিয়ে পড়ে।

গ) কন্দ পচা রোগের আক্রমণের ফলে মাটির নিচের কন্দ আক্রান্ত হয়ে পচন শুরু হয়। পচন ধীরে ধীরে কন্দে ও শিকড়ে ছড়িয়ে পড়ে ফলে কন্দ নরম হয়ে পচে যায়। 

ঘ) কন্দ পচা রোগে আক্রান্ত গাছ ধরে টান দিলে সহজে উঠে আসে। 

আদার কন্দ পচা রোগের  সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা

ক) একই জমিতে বার বার আদা চাষ করা যাবে না।

খ) কন্দ পচা রোগ প্রতিরোধ করার জন্য রোগ মুক্ত পুষ্ট আদার বীজ হিসেবে রোপন করতে হবে।

গ) কন্দ পচা রোগে আক্রান্ত আদা গাছ কন্দসহ তুলে ধ্বংস করতে হবে।

ঘ) আদা লাগানোর পূর্বে নির্ধারিত জমিতে ধান অথবা কাঠের গুড়া ও খড় দিয়ে আগুন লাগিয়ে জমিকে শোধন করতে নিতে হবে।

ঙ) আদার কন্দ পচা রোগ দমনের জন্য হেক্টর প্রতি নিম খৈল ২ টন/ হেক্টর প্রয়োগ করতে হবে। 

চ) রোপনের পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম রিডমিল গোল্ড বা ১ গ্রাম ব্যাভিষ্টিন মিশ্রিত দ্রবণে বীজ কন্দ ৩০ মিনিট ডুবিয়ে ছায়ার নিচে শুকিয়ে রোপন করতে হবে।

ছ) প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে (শ্রাবণ-ভাদ্র) যখন আক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন সঙ্গে সঙ্গে ব্লাইটিক্স ৫০ বা ব্লু-কপার (কপার অক্সি-ক্লোরাইড ৫০%  ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম বা রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে মাটির সংযোগ স্থলে ১৫-২০ দিন পর পর গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।

আরও তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি অফিসার অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।

তথ্য সূত্র-

উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সংকলনে- মোঃ শাহিন মিয়া