ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিস সংক্রান্ত কিছু তথ্য

প্রকাশিত ১১ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ২ জুলাই, ২০২০
ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিস একটা গুরুতর ও বৃদ্ধিমূলক ডিজীজ। এটি এমন একটি অবস্থা যার মধ্যে ফুসফুসের ভিতর পর্যন্ত বিস্তৃত টিস্যু কোন জানা কারণ ব্যতীত ফুসফুসের ক্ষতচিহ্নিত দাগ সৃষ্টি করে। এই টিস্যু পুরু ও অনমনীয় হয়ে থাকে। এটি পরিবারের মধ্যেও ধাবিত হতে পারে, কমপক্ষে কিছু সংখ্যক লোকের জন্য যাদের পালমোনারী ফাইব্রোসিস বিকশিত হয়ে থাকে।

ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিসের   কারণসমূহ

ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিস কি কারণে ঘটে বা কেন লোকজন এতে আক্রান্ত হয় তা চিকিৎসকরা জানেন না। ইডিওপ্যাথিক শব্দটি এ কারণে ব্যবহার করা হয় যেহেতু কারণটি অজানা। একটা অপরিচিত সাবস্টান্স বা জখমের প্রতিক্রিয়ারত ফুসফুসের কারণে সমস্যাটি সম্ভবত হতে পারে। 
ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিস বিকাশের ক্ষেত্রে, জিন একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। এই সমস্যাটি ৫০ ও ৭০ বছর বয়সের মধ্যবর্তী লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। কারো যখন ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিস হয় তখন তার ফুসফুস বিক্ষত ও কঠিন হয়ে থাকে। এই অবস্থা আপনার শ্বাসপ্রশ্বাস দুরূহ করে তোলে। কিছু কিছু লোকদের মধ্যে কয়েক মাস বা কয়েক বছর অধিক যাবৎ চলতে থাকলে অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে থাকে।
এই সমস্যা সৃষ্টির পেছনে আরো কিছু সম্ভাব্য কারণসমুহকে দায়ী করা হয়ঃ
১। পরিবেশ দূষক/ পরিবেশের বিষাক্ত পদার্থ-
কয়েক ধরণের উন্মুক্ত দূষক, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে পালমোনারী ফাইব্রোসিস সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ক) অ্যানিম্যাল ড্যান্ডার
খ) খাদ্যশস্য থেকে প্রাপ্ত ধূলাবালি
গ) অ্যাসবেস্টোস
ঘ) সিলিকা ও মেটাল ডাস্ট
ঙ) গৃহস্থলীর ধুলাবালি
চ) বিভিন্ন ধরণের ধোয়া।
ছ) সিগারেটের ধোয়া।
২। কিছু কানেক্টিভ টিস্যু ডিজীজ।
৩। ইন্টারস্টিশল লাং ডিজীজ।
৪। রেডিওথেরাপীঃ ফুসফুসের ক্যান্সার ও স্তনের ক্যান্সারের জন্য যেসব লোক radiation treatments নিয়ে থাকেন তাদের ফুসফুসে মাঝেমধ্যে ক্ষতি ঘটে থাকে।

ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিসের  কিছু ঔষধ

কিছু ঔষধসমূহ পালমোনারী ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি বাড়ায় এমনটা দেখা গেছে।
ক) Antibiotics, যেমন sulfasalazine এবং nitrofurantoin
খ) Chemotherapy drugs, যেমন methotrexate, bleomycin এবং cyclophosphamide
গ) Heart and blood pressure medicines যেমন propranolol এবং amiodarone।

ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিসের  শারীরিক সমস্যাসমূহ

শারীরিক সমস্যা যা ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে তা ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়ঃ
ক) টিউবারকিউলোসিস
খ) গ্যাসট্রোইসোফ্যাগিয়াল রিফ্লাক্স ডিজীজ
গ) রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
ঘ) সিসটেমিক স্ক্লেরোসিস
ঙ) লুপাস
চ) নিউমোনিয়া
ছ) HIV, hepatitis C, mononucleosis, herpes virus 6 ও influenza A সহ বহু ভাইরাস।
শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা ভীষণভাবে অক্ষম হলে গুরুতর জটিলতা লক্ষ্য করা যেতে পারে। কিছু সংখ্যক জানা জটিলতার মধ্যে রয়েছে হার্ট ফেইলুর, নিউমোনিয়া, পালমোনারী হাইপারটেনশন, ও পালমোনারী এমবোলিজম (ফুসফুসে রক্তজমাটবাঁধা)।
সংক্রমণ, হার্ট ফেইলুর, বা পালমোনারী এমবোলিজম এর পর অ্যাকিউট ইগজ্যাসারবেশন ঘটতে পারে, কিন্তু তা মাঝেমধ্যে ঘটতে দেখা যেতে পারে।
ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিস এর প্রত্যেকটা কেইস ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই রোগের অগ্রগতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট বিবরণের জন্য আপনার উচিত আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলা। ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিস এর সাথে বেঁচে থাকা একটু সহজ করার জন্য নিজেকে যতটা সম্ভব ততটা সুস্থ রাখা গুরুত্বপুর্ণ।

ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিসের কারণে  যেসব লক্ষণাদি সাধারণত দেখা যায়

১। কাশি (সাধারণত শুষ্ক কাশি)।
২। শ্বাসকষ্ট।
৩। ক্লান্তি।
৪। বুক ব্যথা (কখনো কখনো দেখা যায়)।
৫। পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা।
৬। কার্যাদির প্রতি সহনশীলতা কমে যাওয়া।
৭। অজানা কারণে ওজন কমে যাওয়া।

ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিসের  পরীক্ষা-নিরীক্ষা

আপনার সমস্যা বের করতে হলে প্রথমে আপনাকে হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সাথে দেখা করতে হবে। আপনার চিকিৎসক আপনার ফিজিক্যাল ইগজ্যাম করবেন ও মেডিক্যাল হিস্ট্রী বিষয়ক প্রশ্ন করবেন।
হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিস ডায়াগনোজ করার জন্য নিম্নোক্ত টেস্টগুলো করার সম্ভবত অর্ডার বা সুপারিশ করবেনঃ
১। Chest x-ray
২। Echocardiogram
৩। Chest CT scan
৪। Pulmonary বা lungfunction tests
৫। Open lungbiopsy
৬। Imaging tests
৭।  Bronchoscopy ইত্যাদি।

ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিসের  চিকিৎসা

ইডিওপ্যাথিক পালমোনারী ফাইব্রোসিস এর কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। চিকিৎসার লক্ষ্য হচ্ছে লক্ষণাদি লাঘব করা।
১। কিছু ঔষধ যেমন corticosteroids ফুসফুসের মধ্যকার ফুলা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
২। লো ব্লাড অক্সিজেন লেভেল বিশিষ্ট্য রোগীদের বাসায় অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।
৩। লাং রিহেবিলিটেইশন রোগের চিকিৎসা করবে না। কিন্তু তা শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধা ছাড়াই ব্যায়ামে সাহায্য করতে পারে।
অ্যাডভান্সড পালমোনারী ফাইব্রোসিস বিশিষ্ট্য কিছু সংখ্যক রোগীর lung transplant দরকার হতে পারে।

যখন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে

১। শ্বাসক্রিয়া দুরূহ, দ্রুত হলে।
২। ঘনঘন মাথাব্যথা হলে।
৩। নিদ্রা বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে।
৪। শরীরে জ্বর থাকলে।
৫। কাশির সাথে মিউকাস থাকলে।
৬। অপরিচিত অন্য কোন লক্ষণাদি দেখা দিলে।
এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
মোঃ ফারুক হোসাইন