পানিবাহিত রোগ ও তা থেকে মুক্তির উপায়

প্রকাশিত ২ জুন, ২০১৮ | আপডেট: ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

পানিবাহিত রোগ সৃষ্টির বা সংক্রমণের পেছনে প্যাথোজেন বা অণুজীব কাজ করে যা পানির মধ্যে উপস্থিত থাকে। মূলত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবী সংক্রমণ সৃষ্টির জন্য দায়ী।

বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় মানুষ নিজের অজান্তে দূষিত পানি পান করে থাকে ও পরবর্তীতে তাদের পরিপাক তন্ত্রে অসুবিধা (ডায়রিয়া, পেট ব্যথা ইত্যাদি), লিভারের সমস্যা দেখা দেয় যা সংক্রমণের লক্ষণাদি মাত্র। রোগ সৃষ্টিকারী পরজীবী মানুষের পাকস্থলীতে পানির মাধ্যমেবেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রবেশ করে থাকে। 

ছোট বড় সবাই রোগে আক্রান্ত হতে পারে, তবে বড়দের তুলনায় শিশুরাই সবচেয়ে বেশি পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের চেয়ে অপেক্ষাকৃত অনেক কম থাকে।

নিচে কমন কিছু পানিবাহিত রোগের নাম উল্লেখ করা হল

ডায়রিয়া (কলেরা), আমাশয়, কেমপাইলোব্যাকটেরিওসিস, পোলিও, হিপাটাইটিস এ (জন্ডিস) ও ই, টাইপয়েড, প্যারাটাইপয়েড ইত্যাদি।

পানি সংসৃষ্ট রোগাদির মধ্যে আরো রয়েছে

আর্সেনিকোসিস, বটুলিজম, জিয়ারডিয়াসিস, হুকওয়োম ইনফেকশন, লিড পয়জনিং, লেজিওনেলোসিস, স্ক্যাবিস, টিনিয়া ইনফেকশন, নরভাইরাস ইনফেকশন ইত্যাদি।

পানিবাহিত রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

১। প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

২। খাবার পানি ফুটিয়ে সংরক্ষণ করে পান করতে হবে (কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট)।

৩। পানি পরিস্রাবিত করে বা বিশোধন করে (ফিল্টারিং) পান করতে হবে।

৪। পানি রাখার পাত্র পরিষ্কার রাখতে হবে ও পানি ভালোভাবে ঢেকে দিতে হবে।

৫। পানি পরিষ্কার রাখার জন্য আপনি ফিটকিরিও ব্যবহার করতে পারেন।

৬। যেখানে সেখানে মল ফেলা যাবে না।

৭। মল নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৮। টয়লেটে গিয়ে মলত্যাগের অভ্যাস করানো ছোটদের শিখাতে হবে।

৯। টয়লেট বা বাথ ব্যবহারের পর সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

১০। অন্যের ব্যবহার্য জিনিস যেমন খাবার পাত্র বা গ্লাস দিয়ে পানি পান না করাই উত্তম।

১১। খাবার পানি যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসে সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

১২। কোথাও যাওয়ার পুর্বে (ভ্রমনের উদ্দেশ্যে) সাথে করে খাবার পানি নিয়ে যেতে পারেন।

১৩। মেয়াদ পরবর্তী সময়ে কোন খাবার পানীয় (সফট ড্রিংক্স) গ্রহণ করা যাবে না।

১৪। রোগের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাই