হাতের আঘাতের সমস্যা দূরীকরণ

প্রকাশিত ১১ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রতিদিন আমাদের নানা প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে যেতে হয়। চলার পথে অনেকেই নানান দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আমাদের শরীরের যেকোনো অংশে আঘাত লেগে থাকতে পারে। দৈনন্দিন কাজগুলো আমরা যেহেতু হাত দিয়েই করে থাকি তাই হাতে আঘাত পাওয়া বা হাত ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনার ঝুঁকি বেশি লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ লোক হাতের হাড় ভাঙা সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকে, কারণ প্রত্যেকেই কাজের জন্য হাতের উপর নির্ভরশীল। আর যেসব রোগী এই ধরণের সমস্যায় শিকার হন তার মধ্যে আঘাতজনিত সমস্যাই ব্যাপক।

যেসকল কারণে লোকজন হাত বা কব্জি ভাঙার মতো অবস্থার শিকার হয়

১। হঠাৎ পড়ে যাওয়া ও হাতের উপরে চাপ লাগা।

২। খেলাধুলা করতে গিয়ে আঘাত পাওয়া।

৩। মারামারি করতে গিয়ে আঘাত লাগা।

৪। মটর সাইকেল ক্রাশ ইত্যাদি।

কিছু খেলাধুলা রয়েছে যা হাত ভাঙার সম্ভাব্যতা বাড়িয়ে দিতে পারে

বাস্কেটবল, ফুটবল, রাগবি, রেসলিং, হকি, স্কিইং, স্নোবোর্ডিং, জাম্পিং ইত্যাদি।

হাত ভাঙ্গার কারণে আপনি নিম্নোক্ত উপসর্গ বা লক্ষণগুলো অনুভব করে থাকতে পারেন

১। আঘাত পাওয়া স্থান ফুলে যাওয়া

২। থেঁতলানো অবস্থা

৩। চেপে ধরার সময় তীব্র ব্যথা বাড়তে থাকা

৪। অঙ্গবিকৃতি

৫। হাতের আঙ্গুল নড়াচড়া করতে না পারা

৬। হাত অবশ হয়ে যাওয়া

হাতে আঘাত পেলে প্রাথমিক চিকিৎসা

১) রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করুন।

ক) রক্তপাত না থামা পর্যন্ত ক্ষতস্থানে একটা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

খ) হাড় চামড়ার মধ্যদিয়ে চাপ দিতে থাকলে এটা স্পর্শ করা যাবে না কিংবা এটা যথাস্থানে স্থাপনের চেষ্টাও করা যাবে না।

গ) হাড় ভেঙ্গে বাইরে চলে আসার কারণে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে, সেখানে যাতে বেশি নাড়াচড়া করা না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২) ফোলা নিয়ন্ত্রণ

ক) ফোলা নিয়ন্ত্রণে আইস প্যাক প্রয়োগ করতে হবে, এতে ব্যথাও কমবে।

খ) যদি সম্ভব হয় তবে পরিধান করা যে কোন গয়না অবিলম্বে খুলে ফেলতে হবে।

৩) হাত নিশ্চল করা

ক) হাত অবশ বা ঠাণ্ডা হয়ে গেলে তা নাড়ানো যাবে না।

খ) হাত বেঁকে গেলে বা বিকৃত হলে হাত সোজা করার চেষ্টা করা যাবে না।

৪) বিলম্ব না করেহেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সাথে দেখা করতে হবে

৫) অবস্থা অতি গুরুত্বর দেখতে পেলে নিকটস্থ হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যেতে হবে

৬) ফলো আপ

ক) হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার হাতের X-ray-র নির্দেশদিয়ে থাকবেন।

খ) হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার স্প্লিন্ট প্রয়োগ করতে পারেন।

গ) কিংবা সঠিকভাবে বাঠিক চাপে প্লাস্টার করে দিতে পারেন।

ঘ) অধিক জটিল অস্থিভঙ্গের জন্য সার্জারীর দরকার হতে পারে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাই