অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার

প্রকাশিত ১০ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ৭ আগস্ট, ২০২০

অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) অসংখ্য শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে দেখতে পাওয়া এক ধরনের স্বভাব বা আচরনের নাম। এই আচরণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, শিখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ সমস্যা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এই কারণে যেসব শিশুর এডিএইচডি রয়েছে তাদেরকে মাঝেমধ্যে একগুয়ে হতে দেখা যায় বা তাদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা দেখা যায়। যেসব লোকের এই সমস্যা রয়েছে তাদের স্কুলে, বাড়িতে বা কাজে মনোযোগ বসার অসুবিধা থাকে। মনোযোগ দেয়ার জন্য যখনি তারা চেষ্টা করে, তখনি তাদের জন্য মনোযোগ দেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে।

যাদের এডিএইচডি রয়েছে, তাদের জিনিসপত্র বিন্যস্ত করা, আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখা, নির্দেশনা শুনা, বিশেষ তথ্য স্মরণ করা ইত্যাদির একটি দুরুহ সমস্যা রয়েছে।

এডিএইচডি মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের মধ্যে অধিক কমন। গবেষনা দেখায় যে এডিএইচডি সে সকল ব্যক্তিদের মধ্যে সচারাচর অধিক দেখতে পাওয়া যায় যাদের ব্যাধিগ্রস্ত নিকটবর্তী আত্নীয় রয়েছে। পরিবেশের বিষাক্ত পদার্থের (যেমন লেড) প্রকাশ একটা কারণ হতেও পারে। ধূমপানের সাথেও এর যোগসূত্র রয়েছে এমন তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।

কি কিলক্ষণ দেখা যায়

এডিএইচডি বিশিষ্ট্য ব্যক্তি যে অমনোযোগী তাদের নিম্নোক্ত ৬ বা তার অধিক লক্ষণাদি থাকবে-

১। স্বাভাবিক কার্যপদ্ধতি ব্যাহত বা বিশৃঙ্খল মনে হওয়া।

২। নির্দেশ বা উপদেশ পরবর্তীতে অসুবিধা থাকা।

৩। স্কুলে, বাড়িতে বা কর্মস্থলে কার্যাবলীর জন্যে আবশ্যক জিনিস হারানো। 

৪। স্কুলে, বাড়িতে বা কর্মস্থলে কাজ চালানো বা কাজের উপর মনোযোগ রাখা কঠিন।

৫। মনোযোগ সহকারে না শুনতে মনে হওয়া।

৬। বিশেষ তথ্যের প্রতি গভীর মনোযোগ না দেয়া।

৭। কাজের অসুবিধা থাকা পুর্বে যার পরিকল্পনা করা আবশ্যক।

৮। সহজেই মনোযোগ ভিন্ন মুখী হওয়া।

এডিএইচডি বিশিষ্ট্য ব্যক্তি যে অতিক্রিয়াশীল তাদের কমপক্ষে নিম্নোক্ত ৬ লক্ষণাদি থাকবে-

১। অস্থিরতা বা বিকার গ্রস্ততা।

২। শান্তভাবে খেলতে না পারা।

৩। অনুপযোগী রুপে দৌঁড়ানো বা অবতরন করা।

৪। বেশি কথা বলা।

৫। আসনে না থাকতে পারা।

৬। বোকার মতো কোন গোপন বিষয় হঠাৎ বলে ফেলা।

৭। লোকজনের কথায়ও কাজে বাধা দেওয়া।

৮। অবস্থার পরিবর্তনে প্রতীক্ষায় থাকছে এমন অসুবিধা থাকা।

চিকিৎসা

এডিএইচডির কিছুসংখ্যক ওষধকে psychostimulants বলা হয়। এই ওষধ গুলো পুর্ণ মনোযোগ বা মনোনিবেশের উন্নতি সাধন করে ও অতিক্রিয়াশীল ও আবেগ প্রবৃত্ত আচরণ হ্রাস করে। অন্যান্য ওষধ ও এডিএইচডির চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়।

অবহেলা না করে চিকিৎসার জন্যে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাইন