হিস্টিরিয়ায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ

প্রকাশিত ১০ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ৭ আগস্ট, ২০২০

অনেক চিকিৎসক মনে করে থাকেন হিস্টিরিয়া কোনো রোগ নয়, এটি এক ধরনের ভান। আসলে তা ঠিক নয়,হিস্টিরিয়া একটি মানসিক রোগ যা তীব্র অ্যাংজাইটি থেকে উদ্ভূত হয়। এটিকে কনভারসন ডিজঅর্ডারও বলা হয়। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি।

বয়ঃসন্ধিকালে এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। মস্তিষ্কের দুটিঅংশের কাজে সমন্বয়হীনতা কোন কারণে ঘটে থাকলে হিস্টিরিয়ার লক্ষণসমুহ সম্ভবত প্রকাশ পেতে পারে। শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে কাউকে নিপীড়ন করা হলে, কেউ যৌন নিপীড়নের শিকার হলে, কোনো কারণে দোষী সাব্যস্ত করা হলে তারা বিষয়টি প্রকাশ করতে না পারলে অবদমিত ক্ষোভ ও ধ্বংসাত্মক মনোবৃত্তি থেকে হিস্টিরিয়া দেখা যায়।

হিস্টিরিয়া সৃষ্টির পেছনে আরো রয়েছে ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি, ব্রেইন টিউমার, ডিমেনশিয়া, জেনেটিক সমস্যা, নার্ভাসনেস ইত্যাদি।

হিস্টিরিয়ার লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে দাঁতে দাঁত লেগে যাওয়া, পেশি অনমনীয় হয়ে যাওয়া,হাত-পা অবশ, ঘাড় ফুলে যাওয়া, অচেতন হয়ে পড়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মানসিক অস্থিরতা ইত্যাদি।

আরো কিছু লক্ষণাদি রয়েছে

১। পেটের সংকোচন বৃদ্ধি।

২। বুক ধড়ফড়।

৩। দম বন্ধ হয়ে যাওয়া।

৪। কথা বলতে না পারা।

৫। অঙ্গে তীব্র আক্ষেপ।

৬। মাথাব্যথা।

৭। কারণ ছাড়াই হাসা বা কাঁদা।

৮। খিঁচুনির মতো লক্ষণও থাকতে পারে ইত্যাদি।

এ রোগের উপযুক্ত চিকিৎসা রয়েছে।এ রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। এ রোগ নিয়ে কোন প্রকারের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যাবে না।

কাউন্সেলিং, পারিবারিক সাইকোথেরাপি ও গ্রুপ সাইকোথেরাপির মাধ্যমে হিস্টিরিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে রোগীর অবচেতন মনের দ্বন্দ্ব দূর করা হয় ও প্রয়োজনীয় উপদেশ দেয়া হয়।

বাসায় আপনি যে কাজগুলো করতে পারেন

১। হিস্টিরিয়াগ্রস্ত ব্যক্তির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

২। প্রতিদিনকার খাবারের প্রতি নজর দিতে হবে।

৩। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

৪। ব্যায়াম করার ব্যাপারে তাকে উৎসাহিত করতে হবে।

৫। রোগীর চারপাশে কোন ধারালো জিনিস দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।

৬। রোগী চিকিৎসকের নির্দেশনানুযায়ী চলছে কিনা তা লক্ষ্য রাখবেন।

৭। রোগীর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করলে চিকিৎসককে জানাতে হবে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাইন