ধূমপান ত্যাগে দরকার স্ব-ইচ্ছা

প্রকাশিত ১০ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ২ জুলাই, ২০২০

পত্র পত্রিকায়, টিভি সেটে, এমনকি মানুষের মুখে মুখেও শুনা যায় ধূমপানের অপকারীতা সম্পর্কে। আপনি যদি খেয়াল করেন তবে দেখবেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে, অফিস-আদালতে, রাস্তার পাশে ব্যানারে, দেয়ালে ধূমপানের কুফল নিয়ে অনেক কথা লেখা থাকে, যেমন ধূমপান করা নিষিদ্ধ বা ধূমপান ত্যাগ করুণ বা ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর কিংবা ধূমপান বিষ পান। এমনকি কথাটি সিগারেটের মোড়কেও স্পষ্ট লেখা থাকে, ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। এরুপ সতর্কবাণী শুনা সত্ত্বেও কমছে না ধূমপায়ীর সংখ্যা।

দীর্ঘ সময় ধরে ধূমপান করলে মানব শরীরে নানান রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেনে রাখা দরকার প্রধানত তামাকজাতীয় দ্রব্যাদির পোড়া ধোঁয়া গ্রহণকে ধূমপান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। বড়দের পাশাপাশি কম বয়সী বালকদেরকেও আজকাল দেখবেন সিগারেট টানছে। তারা কি জানে, সিগারেটের মধ্যে নিকোটিনসহ ৫৬টি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ উপস্থিত রয়েছে (গবেষণায় পাওয়া তথ্য)। 

নিকোটিন  হচ্ছে তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্য থেকে পাওয়া নাইট্রোজেন ধারণকারী কেমিক্যাল (বিষাক্ত অ্যালকালয়েড) বা নিউরোটক্সিন যা বেশির ভাগ নিকোটিনিক অ্যাসিটাইলকোলিন রিসেপ্টরে অ্যাগোনিস্ট হিসেবে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ব্যবহৃত অ্যাডিক্টিভ ড্রাগের মধ্যে নিকোটিন হল একটি। এটা হচ্ছে একটা প্রধান উপাদান যা মস্তিষ্কের উপর কাজ করে। তামাকের ধোঁয়া টেনে ভিতরে নেয়ার পর নিকোটিন ব্লাডস্ট্রীমে দ্রুত প্রবেশ করে ওব্লাড ব্রেইন বেরিয়ার ক্রস করে। ৮ - ২০ সেকেন্ডের মধ্যে মস্তিষ্কের ভিতর অবস্থান করে। 

সেন্ট্রাল নার্ভাস সিসটেমের কিছু সমস্যা যেমন মাথা ব্যথা, শারীরিক বা মানসিকভাবে বিচলিত হওয়া, ঘুমের সমস্যা, মাথা ঘোরানি, অতিমাত্রায় স্পর্শকাতরতা ইত্যাদির পেছনে নিকোটিন দায়ী।

পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুরা নিউমোনিয়া ও অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। ধূমপানের কারণে ফুসফুস, মুখ, শ্বাসনালি ও আরো নানান জায়গায় ক্যানসার হতে পারে। যারা দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করতে থাকে তাদের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট লক্ষ্য করা যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিকোটিন বেশি ক্ষতিকর, কারণ এটি প্যাঙক্রিয়াস থেকে অপেক্ষাকৃত কম ইনসুলিন তৈরির জন্যে দায়ী। ফলে ব্যক্তির শরীরে ব্লাড সুগার বেড়ে যায়। 

ধূমপানের আরো ক্ষতিকর দিক রয়েছে। নানা রোগের সৃষ্টি এবং টব্যাকৌ ঘটিত রোগে প্রায় সিগারেট ধূমপায়ীদের অর্ধেকের মৃত্যু ঘটে। যেহেতু নিকোটিন একটি পোটেন্ট প্যারাসিমপাথোমিমেটিক অ্যালকালয়েড তাই এর ব্যবহার স্বাস্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে পরিহার করাইউত্তম পদক্ষেপ। নিজ থেকে সচেতন না হলে ও দেশে আইনী ব্যবস্থা চালু না করলে ধূমপান পরিহার করা কোনো মতেই সম্ভব হবে না।

এই লেখাটি শুধুমাত্র জনসচেতনতা ও তথ্যের জন্য।

মোঃ ফারুক হোসাই