ধুকধুকানির কারণ ও আমাদের করণীয় বিষয়

প্রকাশিত ১০ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর, ২০২০

মাঝেমধ্যে আমাদের বুক ধড়ফড় সমস্যায় ভুগতে হয়। এটি হার্ট প্রবলেমের কারণে অনেক সময় হয়ে থাকে, তবে সবসময় নয়। মানুষ যখন কোনো দুর্ঘটনার সংবাদ পায় বা এমন কিছু শুনে যা তার কাছে অপ্রত্যাশিত তখনি এটি ঘটতে দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ ঘটনায় দুশ্চিন্তা, ভয় বা আতঙ্কের কারণে হয়ে থাকে। বুকে ধড়পড় শুরু হলে মনে সাহস রাখার চেষ্টা করুণ ও নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ রাখুন। ঘাবড়ে যাওয়ার কারণে আপনার সমস্যা কমবে না বরং বাড়বে।

বুক ধুকধুকানি মানসিক চাপ, ব্যায়াম, ঔষধ বা কদাচিৎ শারীরিক সমস্যা দ্বারা ট্রিগার করা যায়। যদিও হার্টের ধুকধুকানি বিরক্তিকর হতে পারে তথাপি তা সচারাচর ক্ষতি করে না। খুব কম ক্ষেত্রেই হার্টের ধুকধুকানি অধিক গুরুতর হার্টের অবস্থার একটা লক্ষণ হতে পারে, যেমন একটা অনিয়মিত হার্টবিট যার জন্য চিকিৎসার দরকার হতে পারে।

যে সকল কমন কারণসমূহ বুক ধুকধুকানির জন্য দায়ী-

১। উচ্চ জ্বর।

২। রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়া।

৩। শ্রমসাধ্য ব্যায়াম।

৪। অতিরিক্ত পরিশ্রম।

৫। ক্যাফেইন।

৬। নিকোটিন।

৭। উচ্চ রক্তচাপ।

৮। হার্ট ফেইলিউর।

৯। হরমোনের পরিবর্তন (মাসিক, গর্ভাবস্থা বা ঋতুজরা সংক্রান্ত)।

১০। রক্তশূন্যতা।

১১। Pseudoephedrine ধারণকারী সর্দি-কাশির ঔষধ।

১২। Stimulants ধারণকারী কিছু asthma inhaler medication।

ঝুকিপুর্ণ কারণসমুহের মধ্যে রয়েছে-

১। অত্যধিক মানসিক চাপে থাকা।

২। দুশ্চিন্তা রোগে ভোগা।

৩। গর্ভাবস্থা।

৪। হাইপার থাইরয়েডিজমে ভোগা।

৫। হার্টের সমস্যায় ভোগা (অ্যারিথমিয়া)।

করণীয় বিষয়-

নিম্নোক্ত উপসর্গ বা লক্ষণসমূহের সাথে বুকের ধুকধুকানি  ঘটে থাকলে চিকিৎসককে ডাকতে হবেঃ

১। মাথা ঘোরানি।

২। বিভ্রান্তি।

৩। মানসিক বা শারীরিকভাবে বিচলিত হওয়া।

৪। অচেতন হয়ে পড়া বা মাতাল হত্তয়া।

৫। শ্বাসকষ্ট।

৬। বুকে, ঘাড়ে, চোয়ালে, বাহুতে ব্যথা বা পিঠের উপরিভাগে টানটান অনুভুতি।

বুকের ধুকধুকানি কমানোর উপায়-

১। চাপ সৃষ্ট পরিস্থিতি ত্যাগ করতে হবে এবং শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

২। জনাকীর্ণ পরিবেশ থেকে সরে আসতে হবে।

৩। অ্যাংজাইটি, ভয় বা আতঙ্ক থেকে দূরে থাকতে হবে।

৪। বুকের ধুকধুকানি ক্যাফেইন এর কারণে হয় বলে যদি মনে হয়ে থাকে  তবে কফি, চা ও চকলেট গ্রহণ সীমিত করতে হবে।

৫। ধূমপান ত্যাগ করতে হবে বা তামাকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার পরিহার করতে হবে।

৬। অ্যালকোহল পান করা যাবে না।

৭। অবৈধ ড্রাগ যেমন কোকেইন, অ্যাম্পিটামিন ইত্যাদি বর্জন করতে হবে।

৮। যেসব ওষধ স্টিমিউল্যান্টের মত কাজ করে (কফ ও কোল্ড মেডিসিন বা ডিকানজেস্ট্যান্ট) সেগুলো পরিহার করতে হবে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাইন