পোষা পাখি বাছাই করার সময় কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ

প্রকাশিত ১০ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

বাড়িতে পাখি পালন করার জন্য পাখি নির্বাচনের সময় দেখতে হবে পাখিটি সুস্থ আছে কিনা। পাখির শরীরের ভিতরের অসুস্থতা সম্পর্কে তেমন বোঝা না গেলেও বাহ্যিক দিক থেকে দেখে আমরা তাঁর সুস্থতা সম্পর্কে একটা ধারণা বা চেক করে নিতে পারি। আসুন নিচের কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করি। তাহলেই বুঝতে পারব পাখিটি সুস্থ কিনা।

১। প্রথমেই দেখতে হবে পাখি গায়ের পালক ফুলিয়ে আছে কিনা? যে কোন অসুস্থতাতে পাখি তাঁর গায়ের পালক ফুলিয়ে রাখে। তবে খেয়াল রাখবেন এই লক্ষণ দেখতে গেলে পাখির বেশি কাছে যাওয়া যাবে না। স্পর্শ না করে দূর থেকে দেখতে হবে।

২। দেখতে হবে পাখির নাক বা চোখের কাছের পালক ভেজা আছে কিনা? ভেজা থাকলে বুঝতে হবে পাখিটি অসুস্থ। পাখির পায়খানা পরীক্ষা করলেও বুঝা যায় যে পাখিটি অসুস্থ রয়েছে কিনা। অবশ্য এর জন্য অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

৩। দেখতে হবে পাখির মলদ্বারে পালক ভেজা আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে বুঝতে হবে পাখিটি  কোন প্রকার অসুস্থ।

৪। পাখির বুকের কাছে মাংসপেশি ঠিক আছে কিনা সেটা ভাল করে খেয়াল করে দেখতে হবে। অর্থাৎ বুকের হাড় সামনের দিকে বেরিয়ে আছে কিনা সেটা দেখতে হবে। এমনটা হলেও বুঝতে হবে পাখিটি অসুস্থ।

৫। পাখির ঠোঁট ও নখ ঠিক যেমন হওয়া দরকার তেমনটা আছে কিনা সেটাও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ঠোঁট যদি ছোট বড় হয় কিংবা নখ যদি বড় ও বাঁকা হয় তাহলে বুঝতে হবে পাখিটির একটি সমস্যা আছে। 

৬। আরও দেখতে হবে পাখির গায়ের কোন অংশে পালক না থাকলে বুঝতে হবে, পাখিটির কোন একটি সমস্যা আছে। এই সমস্যা অনেক সময় আমরা গুরুত্ব দেই না। তবে অনেক সময় এটা অসুস্থতার লক্ষণও হতে পারে। অবশ্য বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।

পাখিকে জীবাণুমুক্ত করুন

উপরোক্ত লক্ষণ গুলো খেয়াল করলেই বোঝা যাবে নির্বাচিত পাখিটি সুস্থ নাকি অসুস্থ। এছাড়াও পাখির দেহে নানা ধরণের রোগ জীবাণু থাকে যা খালি চোখে বোঝা সম্ভব নয়। এজন্য নিচের কিছু বিষয় খেয়াল করলে আমরা জানতে পারব পাখিটি জীবাণুমুক্ত কিনা।

১। জীবাণু মুক্ত করা- বাড়িতে পাখি আনার পর সেটাকে অন্তত বেশকয়েকদিন পর্যবেক্ষনের উপর রাখতে হবে। হতে পারে সেটা বাড়িতে প্রথম পাখি।

২। বাড়িতে যদি আরও পাখি থাকে তাহলে নতুন পাখিটিকে আলাদা জায়গায় রেখে পর্যবেক্ষন করতে হবে। এই পর্যবেক্ষন কে কোয়ারেনটাইন (Quarantine) বলে।

৩। প্রাথমিক অবস্থায় নতুন পাখিকে বাড়িতে একটি আলাদা পরিষ্কার খাঁচায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন পাখিটিকে এমনও জায়গায় রাখতে হবে যাতে পাখিটি কোন কিছু দ্বারা ভয় বা আতঙ্কগ্রস্থ না হয়।

৪। পাখির খাঁচায় প্রায় সবধরনের দানা খাদ্য দিয়ে রাখতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে পাখির খাঁচায় যেন অবশ্যই গ্রীট থাকে।

৫। এরপর পাখিটিকে প্রথম পাঁচ ছয় দিন পানির সঙ্গে B-Complex মিশিয়ে খেতে দিতে হবে। এতেকরে পাখির হজম শক্তি ঠিক থাকে ও স্নায়ুর দূর্বলতা কেটে যায়।

৬। পাখিকে বাহ্যিকভাবে সুস্থ দেখালেও এর ভিতরে যে কোন ধরণের জীবাণু থাকতে পারে যা পাখির ক্ষতি করতে পারে। তাই পাখিকে Broad spectrum antibiotic দিতে হবে। এক্ষেত্রে পাখিকে পানির সঙ্গে দ্রবীভূত Amoxincilin দিতে পারেন একটানা প্রায় পাঁচ ছয় দিন। তারপরে পাখিকে নরম খাবারে সঙ্গে Probiotic দিতে হবে।

৭। এরপর পাখির পেটে কৃমি থাকতে পারে যা পখিকে অসুস্থ করে দিতে পরে। তাই Probiotic একটানা সাতদিন দেওয়ার পরে পাখিকে কৃমির ঔষধ দিতে হবে। এক্ষেত্রে পাখিকে Piperzine নামক ঔষুধ দিতে পারেন। এটা পানির সঙ্গে মিশে যায়। এই ঔষুধ একবার দেওয়ার পর পুনরায় অন্তত তের থেকে চৌদ্দ দিনের মাথায় দিতে হবে।

৮। এরপর পাখিকে লিভারের ঔষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি Liv52 ও Levol ব্যবহার করতে পারেন।

৯। পাখির শরীরে পালকের নীচের অনেক জীবাণু থেকে থাকে। এগুলো পাখির অনেক ক্ষতি করতে পারে। এজন্য অবস্থা বুঝে পাখিকে হলুদ পানিতে গোসল করানো যেতে পারে। তবে সব পাখিকে গোসল করানো যায় না। তাই এক্ষেত্রে শুকনো নিম পাতার গুঁড়ো, উন্নতমানের হলুদের গুঁড়ো ও কর্পুর ৬.২.০.৫ অনুপাতে মিশিয়ে পাখির গায়ে এবং খাঁচায় ভালকরে ছড়িয়ে দিতে হবে। 

উপরিউক্ত নিয়মে বাড়িতে সঠিক ও সুস্থভাবে আপনার পছন্দের পোষাপাখি পালতে পারেন।

সংকলনে- মোঃ শাহিন মিয়া