দাঁতের ও মুখের স্বাস্থ্য

প্রকাশিত ৮ এপ্রিল, ২০১৮ | আপডেট: ১২ আগস্ট, ২০২০

আশ্চর্য মনে হলেও দাঁত হচ্ছে জীবন্ত অপরিহার্য কাঠামো বা অবয়ব, যদিও এটিকে তার ন্যায় নাও দেখাতে পারে। প্রতিটি দাঁতের ধরনই এর কাজের নির্দেশ দেয়। উদাহরণস্বরুপ, মুখের সামনের ব্লেড আকৃতির ছেদকদন্ত খাদ্য কর্তনের জন্য, তার পাশের তীক্ষ্ণ দাঁত খাবার ছিঁড়তে সাহায্য করে থাকে। 

চর্বণ হচ্ছে পরিপাক বা পাচক প্রক্রিয়ার (ডাইজেস্টিভ প্রোসেস) প্রথম ধাপ। এটি খাবারকে এনার্জিতে রুপান্তরিত করার জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে। তিন জোড়া লালাগ্রন্থি খাদ্যনালীর মধ্যদিয়ে খাবার অতিক্রমে সাহায্যের জন্য খাবারকে সিক্ত করে। এই গ্রন্থিগুলো এনজাইম ক্ষরণ করে যা শ্বেতসার দ্রবীভূত করতে শুরু করে।

মুখের স্বাস্থ্য ও সাধারণ স্বাস্থ্যের মধ্যে যোগসূত্র

মুখের স্বাস্থ্যের অবক্ষয় ও মুল সিস্টেমিক কানডিশনের মধ্যে একটা সংযোগ রয়েছে এমনটি গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন, পক্ষান্তরে সম্প্রতি বছরগুলোতে মুখের স্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা প্রমাণিত হয়েছে যে একটা সুস্থ মুখ সুস্থ দেহ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। মুখের ব্যাকটেরিয়া ও প্রদাহ হার্ট ডিজীজ, এন্ডোকার্ডাইটিস, প্রীম্যাচার বার্থ ইত্যাদি সমস্যার সাথে সম্পৃক্ত হতেও পারে এবং নিম্ন জন্ম ওজনের সাথেও (Mayo Clinic-র তথ্যানুযায়ী)।

মুখে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া মুখের গহ্বর থেকে রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, হার্ট ভাল্ভের জীবন আশঙ্কাজনক সংক্রমণ সৃষ্টির দিকে নিয়ে যেতে পারে। একজন ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার পর সম্ভবত তিনি ডেন্টাল প্রসিডুর করার পুর্বে আপনাকে একটা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে antibiotics নেয়ার ব্যাপারে সাজেস্ট করবেন, যা আপনার মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করবে।

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখার উপায়

একটা ভালো মুখের স্বাস্থ্য ভালো শারীরিক স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত বহন করে। প্রতিদিন আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খাবার খেতে হয়। খাবার খাওয়ার পর এর অংশবিশেষ দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে, আর লেগে থাকা অংশ ও মুখে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া নানান ধরণের সংক্রমণ সৃষ্টি করে থাকে। তাই প্রতিদিন আমাদের খাবারের পর সকাল ও রাতে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। ব্রাশের সময় অবশ্যই fluoride toothpaste ব্যবহার করুন। খাবারের পর দৈনিক দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকা খাদ্যকণা দূর করুন। 

৬ মাস অন্তর একজন ডেন্টাল প্রোফেশনাল দিয়ে আপনার দাঁত পরিষ্কার করান। তামাক জাতীয় দ্রব্য পরিহার করুন। উচ্চ আঁশযুক্ত, কম চর্বিযুক্ত, কম চিনিজাতীয় খাবার অনুসরণ করুন। ফল-মূল ও শাকসবজি বেশি করে খাবার তালিকায় রাখুন। এই ধরণের খাবারে প্রকৃতগতভাবেই উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন ডি আছে যা আপনার শরীরকে দাঁত ও হাড়ে উপস্থিত থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও মিনারাল শোষণে ও অক্ষুণ্ণ রাখতে সাহায্য করে। মিষ্টি খেতে চাইলে অবশ্যই তা সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কিন্তু চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থা নিরুপন বা চিকিসা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোঃ ফারুক হোসাই