আম চাষে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং পরিবেশ ও চাষ পদ্ধতি

প্রকাশিত ৯ এপ্রিল, ২০১৮ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

আম আমদের দেশের একটি অতি পরিচিত ফল। আমাদের দেশে সর্বত্রই আমের চাষ করা হয়ে থাকে। তবে আমরা অনেকেই আম চাষ করার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মকানুন জানি না। যার ফলে আম চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায় না। আম চাষ করার ক্ষেত্রে আমের উপযুক্ত স্থান ও পরিবেশ সম্পর্কে জানতে হবে।  আম চাষের জন্য উপযুক্ত স্থান এবং পরিবেশ ও চাষ পদ্ধতি নিম্নে বর্ণনা করা হল-

স্থান

ক) সঠিক নিয়মে আম চাষ করার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করতে হবে।

খ) আম আমাদের দেশে সকল এলাকাতেই চাষ করা যায়। তবে দেশের উত্তর পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল সবচাইতে উপযোগী।

গ) আম চাষ করার ক্ষেত্রে যদি আপনি ভুল জায়গা নির্বাচন করেন তাহলে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও উৎপাদিত ফলের গুণগতমানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

উপযুক্ত জমি ও মাটি

ক) আম চাষ করার জন্য উঁচু ও মাঝারি জমি নির্বাচন করতে হবে।

খ) প্রায় সকল ধরণের মাটিতে আম চাষ করা যায়। তবে মধ্যেম বুনটের গভীর ও পানি নিষ্কাশন ক্ষমতাসম্পন্ন ৭.৮- ৮.৪ অম্লতা (পিএইচ) অধিক উপযোগী। ভুগর্ভস্থ পানি স্তরের গভীরতা বছরব্যাপী ১৮০ সেমি এর নিচে থাকা বাঞ্ছনীয়।

গ) যে মাটিতে আমের চাষ করা হবে সেখানে মাটির ২০ সেঃমিঃ গভীরতায় জৈব পদার্থ, অম্লতা, ফসফরাস, পটাশ, সালফার, ক্যালসিয়াম, লৌহ, জিংক, ইলেক্ট্রিক্যাল কন্ডাক্টিভিটি প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর পরীক্ষাগারে নির্ণয় করা আবশ্যক।

ঘ) পাহাড়ী এলাকায় আমের চাষ করতে হলে উক্ত মাটির জমির ঢাল ৪৫ ডিগ্রির নিচে হতে হবে।

আম চাষের সঠিক পরিবেশ ও চাষ পদ্ধতি

সঠিক চারা নির্বাচন

ক) উপযুক্ত এলাকা অনুসারে আমের চারা নির্বাচন করতে হবে। আমের চারা লাগানোর সময় সঠিক পরিমাণে চারার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

খ) আম চাষের এলাকা অনুসারে উক্ত স্থানের জলবায়ু, মাটি ও ফসলের বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে জাত নির্বাচন করতে হবে।

গ) যদি আমের কলম করা হয় তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আমের কলমের জাত যেন উন্নত মানের হয়।

ঘ) চারা কলম অবশ্যই সুস্থ, সবল, রোগ ও পোকামাকড় মুক্ত এবং সপুষ্ট হতে হবে। আমের চারা কলম সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আবশ্যই পরিচিত নার্সারী অথবা খামার হতে সংগ্রহ করতে হবে।

আমের চারা রোপণের সঠিক সময়

ক) আমের চারা অথবা কলম মে মাস থেকে জুলাই মাসের রোপণ করা সর্বোত্তম।

খ) মার্চ মাস থেকে এপ্রিল মাসেও আমের চারা রোপণ করা যায় যদি সেচের সুবিধা এবং পর্যাপ্ত চারা যোগান থাকে।

চারা রোপন করার সঠিক দূরত্ব

ক) আমের চারা রোপন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে তারপরে চারা রোপণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে জমির মাটির উর্বরতা, আমের জাত ইত্যাদি ঠিক রাখতে হবে।

খ) বড় আকৃতির গাছের ক্ষেত্রে ১২ × ১২ মিটার এবং ছোট আকৃতির জাতের ক্ষেত্রে ১০ × ১০ মিটার দূরত্বে চারা রোপন করতে হবে।

গ) খর্বাকৃতির (যেমন- বারি আম- ৩) এর ক্ষেত্রে ৮ × ৮ মিটার দূরত্ব উপযোগী।

সঠিক নিয়মের গর্ত তৈরি করা

ক) আমের চারা রোপণ করার ক্ষেত্রে গর্তের নির্দিষ্ট মাপ হতে হবে। 

প্রতিটি গর্তের আকৃতি হবে  ১ × ১ × ১ মিটার।

খ) প্রতিটি গর্তের দূরত্ব হবে ৮ × ৮ – ১০ মিটার। প্রতিটি গর্তে সঠিক মাপে জৈব সার ও কৃত্রিম সার দিতে হবে।

গ) প্রতিটি গর্তে ২০ কেজি গোবর বা পচানো জৈব সার, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম জিপসাম, ৫০ গ্রাম জিংক সালফেট এবং ৫০ গ্রাম বোরিক এসিড দিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে।

ঘ) যদি গর্তের মাটি বেশি শুকনো হয় তাহলে গর্ত ভরাট করার সময় গর্তের মধ্যে পানি দিতে হবে।

আমের চারা রোপণ পদ্ধতি

ক) আমের চারা লাগানোর পূর্বে উক্ত গর্তের মাটি, গোবর ও রাসায়নিক সার দিয়ে ভরাট করে দিতে হবে। এভাবে ১০-১৫ দিন রাখার পরে উক্ত গর্তে আমের চারা রোপন করতে হবে।

খ) যদি চারার গোড়ায় কোনপ্রাকার পলিব্যাগ বা মাটির পাত্র থাকে তবে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে গাছের বৃদ্ধিতে তা ব্যাঘাত ঘটায়।

গ) চারা রোপন করার পরে গর্তের মাটি সঠিকভাবে চাপ দিয়ে পানি সেচ দিতে হবে। একটা খুঁটি দিয়ে আমের চারাকে বেঁধে দিতে হবে।

সংকলনে- মোঃ শাহিন মিয়া