ধানের মাজরা পোকা ও প্রতিকার

প্রকাশিত ১ এপ্রিল, ২০১৮ | আপডেট: ৭ আগস্ট, ২০২০

আমাদের দেশে সাধারণত তিন ধরণের মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা যায়

১.হলুদ মাজরা পোকা

২.কাল মাথা মাজরা পোকা

৩.গোলাপী মাজরা পোকা

মাজরা পোকাগুলোর কীড়ার রঙ অনুযায়ী তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। এদের আকৃতি ও জীবন বৃত্তান্তে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও এদের ক্ষতির ধরণ ও দমন পদ্ধতি একই। জমির কিছু কিছু স্থানে ধান গাছের শিষ বা ডগা মরা দেখা গেলে বুঝতে হবে ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ ঘটেছে। যে পাতায় মাজরা পোকা বা পোকার ডিম দেখা যাবে সেই শিষ বা ডাল পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন ফাঁদ বা কীটনাশক ব্যবহার করে এসকল পোকা দমন করা যায়। এসব পোকার মধ্যে হলুদ মাজরা পোকা প্রধাণত বেশি আক্রমণ করে বলে এই পোকার বিবরণ দেওয়া হল:

হলুদ মাজরা পোকার ক্ষতি বা লক্ষণসমূহ

১। হলুদ মাজরা পোকা পাতার উপরে ও নীচে ডিম পাড়ে ও ডিমের গাদার উপর হালকা ধূসর রংয়ের আবরন পড়ে।

২।  ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে আস্তে আস্তে কান্ডের ভিতর প্রবেশ করে ভিতরের নরম অংশ কুড়ে কুড়ে খায়।

৩। শীষ আসার আগ পর্যন্ত এ ধরনের ক্ষতি হলে মরাডিগ দেখা যায় এবং ডিগ টান দিলে সহজেই উঠে আসে।

৪। শীষ আসার পর মাজরা পোকা ক্ষতি করলে সম্পূর্ন শীষ শুকিয়ে যায়। একে সাদাশীষ বা মরা শীষ বলে।

৫। বোরো, আউস ও আমন ধাণে এই পোকার আক্রমণ বেশি দেখা যায়।

মাজরা পোকার দমন পদ্ধতি

১। মাজরা পোকার ডিমের গাদা সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে।

২।  ক্ষেতে ডালপালা পুতেঁ দিয়ে পোকা খেকো পাখির সাহায্যে পোকার সংখ্যা কমাতে হবে।

৩। আলোক ফাদের সাহায্যে পোকা দমন করতে হবে।

৪। জমিতে শতকরা ১০-১৫ ভাগ মরা ডিগ অথবা শরকরা ৫ ভাগ মাদা শীষ দেখা গেলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। 

৫। ধানের চারা লাগানোর ১৫ দিন পর ৩০ গ্রাম ভিরতাকো ৪০ ডব্লিউজি সামান্য পানিতে গুলিয়ে নিয়ে পরিমাণমত ইউরিয়া সারের সাথে মিশিয়ে সমস্ত     জমিতে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে।

৬। ভিরতাকোর ৪০ ডব্লিউজি কার্যকারীতা ৩-৪ সপ্তাহ স্থায়ী হয় তাই শীষ আসার পর মাজরা পোকা যাতে ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ভিরতাকো একই নিয়মে ২য় বার দিতে হবে।

৭। ভিরতাকো শেষ প্রয়োগ ও ফসল তোলার মাঝে ২১ দিন ব্যবধান রাখা উচিত।

৮। তিরতাকো ৪০ ডব্লিউজি একর প্রতি ৩০ গ্রাম দেওয়া যায়।