টক পালংশাক চাষ

প্রকাশিত ২৮ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

পালংশাক বেশ জনপ্রিয়, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু পাতা জাতীয় সবজি। এ সবজি অধিক ভিটামিনসমৃদ্ধ। আমাদের দেশে শীতকালে টক পালংশাক চাষ করা হয়।

টক পালংশাকের উপকারিতা

পালং শাক খেলে শরীর যেমন সুস্থ থাকে, তেমনি রোগ-ব্যাধি সারাতেও এই শাক বেশ উপকারি। যেমন-

১. পালং শাক শরীরের অন্ত্র সচল রাখতে সাহায্য করে। অন্ত্রের ভেতরে জমে থাকা মল সহজে বের করে দেয়।

২. ডায়াবেটিস রোগীরা এই শাক পরিমাণমতো খেলে উপকার পাবেন।

৩. এর বীজের ঘন তেল কৃমি ও মূত্রের রোগ সারাতে সহযোগীত করে।

৪. পালং শাকের কঁচি পাতা ফুসফুস, কন্ঠনালীর সমস্যা, শরীর জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করে থাকে।

৫. পালং শাক শরীর ঠান্ডা রাখে। জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এই শাক খুবই উপকারি।

এছাড়াও এই শাক রক্ত পরিষ্কারক করে। রক্ত বৃদ্ধিও করে। এবং পোড়া ঘায়ে, ক্ষতস্থানে, ব্রনে বা কোথাও কালশিরা পড়লে টাটকা পালং পাতার রসের প্রলেপ লাগালে ভালোই উপকার পাওয়া যায়।

টক পালং শাকের জাতসমূহ

এ শাকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাত হচ্ছে। পুষা জয়ন্তী, কপি পালং, গ্রিন, সবুজ বাংলা ও টকপালং ইত্যাদি। 

টক পালং শাক চাষে মাটি

আমাদের দেশে প্রায় সব ধরনের মাটিতে টক পালংশাকের চাষ করা যায়। তবে এঁটেল, বেলে দো-আঁশ মাটিতে এই শাক ভাল জন্মে।

টক পালং শাক চাষে জমি চাষ

ভাল করে ২-৩ টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হবে।

টক পালং শাক চাষে সারের পরিমাণ

প্রতি শতকে-

গোবর- ৪০ কেজি

ইউরিয়া- ১ কেজি

টিএসপি- ৫০০ গ্রাম

এমপি- ৫০০ গ্রাম

এবং প্রতি একরে-

গোবর- ৪০০ কেজি

ইউরিয়া- ১০০ কেজি

টিএসপি- ৫০ কেজি

এমওপি- ৫০ কেজি

প্রতি শতকে এবং প্রতি একর  পালং শাকের  জমিতে নিয়ম অনুযায়ী এই সকল সার প্রয়োগ করতে হবে। 

টক পালং শাক চাষের সময়

টক পালংশাকের বীজ বপনের উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর- জানুয়ারি মাস। এই বীজ সারিতে ও ছিটিয়ে বপন করা যায়। বপনের পূর্বে বীজ ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজ বপনের পর অঙ্কুরোদগমে প্রায় ৭-৮ দিন সময় লাগতে পারে।

টক পালং শাক চাষে পরিচর্যা

ভাল ফলন পেতে হলে নিয়মিত টক পালংশাকের জমি পরিচর্যা করতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলেই তা তুলে ফেলতে হবে। এ শাকের জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। তাই সারের উপরিপ্রয়োগের আগে মাটির ‘জো´ অবস্থা বুঝে সেচ দিতে হবে। চারা রোপনের পর হালকা সেচ দেওয়া প্রয়োজন। গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য মাটিতে বেশি দিন রস ধরে রাখা এবং মাটিতে যাতে সহজে আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে সেজন্য প্রতিবার পানি সেচের পর জমির উপরের মাটি আলগা করে দিতে হবে। বীজ গজানোর ৮-১০ দিন পর প্রতি মাদায় ২টি করে চারা রেখে অতিরিক্ত চারা উঠিয়ে ফাঁকা জায়গায় রোপন করতে হয়।

টক পালং শাক চাষে পোকামাকড়

পালংশাকে মাঝে মাঝে পিঁপড়া, উড়চুঙ্গা, উইপোকা এবং পাতা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দেখা যায়। আক্রমণ হলে আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে।

টক পালং শাক চাষে রোগ-বালাই

পালংশাকের প্রধান রোগের মধ্যে রয়েছে- গোড়াপচা রোগ, পাতার দাগ রোগ, পাতা ধ্বসা রোগ ইত্যাদি।

টক পালং শাক সংগ্রহ

বীজ বপনের এক মাস পর থেকে পালংশাক সংগ্রহ করা যায় এবং গাছে ফুল না আসা পর্যন্ত যে কোনো সময় সংগ্রহ করা যায়।

সংকলনে- মোঃ শাহিন মিয়া